ঢাকার আদালতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ
বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, নির্ধারিত দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। এ কারণে আদালত সময় বাড়িয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
পুনঃতদন্তের পটভূমি
এর আগে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ডিবি পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে একই আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে শরিফ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছান। দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলার অগ্রগতি ও অভিযোগ
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারে গুরুতর জখম এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্র ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেও এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















