০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
সলিড-স্টেট ব্যাটারির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু: বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় খরচের পরীক্ষা, বিনিয়োগকারীর রায়ে বড় প্রযুক্তির দুই পথ ইনসাইড‑আউট পন্থায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করল আপউইন্ড সম্পদ যুদ্ধ এড়াতে কায়রোতে স্বাক্ষরিত হলো বিশ্ব পানি চুক্তি মেয়ে সন্তান জন্মালেই ভয় শুরু হয়: মারদানি ৩, মাতৃত্ব এবং কেন অশুভের কোনো লিঙ্গ নেই—রানি মুখার্জি টয়োটা ইন্ডাস্ট্রিজ অধিগ্রহণ ঘিরে বিনিয়োগকারীদের বিদ্রোহ, জাপানি করপোরেট সংস্কৃতির বড় পরীক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকার বন্যার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও লা নিনিয়াকে দোষারোপ প্রাথমিক মার্কিন পর্যালোচনায় আগ্নেয়াস্ত্র দেখানোর উল্লেখ নেই, তবু আলেক্স প্রেটির মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনের বয়ানে প্রশ্ন রাজনীতি দায়িত্ব, ব্যবসা নয়: মির্জা ফখরুল স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে সতর্কবার্তা রাবেয়ার, চতুর্থ শিরোপার পথে বাংলাদেশ নারী দল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় খরচের পরীক্ষা, বিনিয়োগকারীর রায়ে বড় প্রযুক্তির দুই পথ

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে এক নতুন বাস্তবতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগ তখনই বাজারে গ্রহণযোগ্য, যখন তা দ্রুত ও দৃশ্যমান আয়ের প্রবৃদ্ধি এনে দেয়। যেখানে সেই ফল মিলছে না, সেখানে বিনিয়োগকারীরা মুহূর্তেই শাস্তিমূলক অবস্থান নিচ্ছেন।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত আয় প্রতিবেদনের পর শেয়ারবাজারের প্রতিক্রিয়ায় এই বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখানো একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য লাফিয়ে বাড়ে। অন্যদিকে ক্লাউড ব্যবসায় প্রত্যাশার নিচে ফল দেখানো আরেক প্রযুক্তি জায়ান্টের শেয়ার বড় ধাক্কা খায়।

বিনিয়োগকারীর ধৈর্যের সীমা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে প্রথম দিকের সুবিধা নিয়ে একসময় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া একটি প্রযুক্তি কোম্পানি এখন চাপের মুখে। বিপুল মূলধনী ব্যয়ের বিপরীতে আয়ের গতি ধরে রাখা যাচ্ছে কি না, সেটাই বিনিয়োগকারীদের প্রধান প্রশ্ন। তাদের ক্লাউড সেবার আয় সামান্য প্রত্যাশা ছাড়ালেও বাজার কে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

এদিকে আরেক বড় সামাজিক মাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার আয় বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। শেষ প্রান্তিকে তাদের আয় বেড়েছে শক্তভাবে, আর সামনে আরও দ্রুত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রবৃদ্ধিই তাদের বাড়তি বিনিয়োগ ব্যয় কে যৌক্তিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অংশীদারিত্বের ঝুঁকি

এক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়িয়েছে তাদের ঘনিষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। ক্লাউড সেবার ভবিষ্যৎ আয়ের বড় অংশ ওই অংশীদার কেন্দ্রিক হওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে।

প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সরবরাহ সীমাবদ্ধতা তাদের প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা আটকে দিয়েছে। পর্যাপ্ত সক্ষমতা পেলে আয়ের গতি আরও বাড়তে পারত বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন থেকে ব্যয়ে সমন্বয়ের গল্প

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু বিজ্ঞাপনের মান বাড়ছে না, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাও উন্নত করছে। এই যৌথ প্রভাব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আয়ের পথ তৈরি করবে। যদিও চলতি বছরে তাদের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবুও বাজার এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দিকে ও নজর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বৈদ্যুতিক যান ও প্রযুক্তি খাতের আরেক বড় নাম। স্বয়ংক্রিয় যান, মানবসদৃশ রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় ব্যয় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার সঙ্গে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা দেখিয়ে তারা আপাতত বাজারের সমর্থন পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে একটি ফাঁক তৈরি হচ্ছে। একদিকে করপোরেট পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় স্বপ্ন, অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিটের দ্রুত ফল পাওয়ার চাপ। এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সলিড-স্টেট ব্যাটারির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু: বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় খরচের পরীক্ষা, বিনিয়োগকারীর রায়ে বড় প্রযুক্তির দুই পথ

০৪:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে এক নতুন বাস্তবতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগ তখনই বাজারে গ্রহণযোগ্য, যখন তা দ্রুত ও দৃশ্যমান আয়ের প্রবৃদ্ধি এনে দেয়। যেখানে সেই ফল মিলছে না, সেখানে বিনিয়োগকারীরা মুহূর্তেই শাস্তিমূলক অবস্থান নিচ্ছেন।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত আয় প্রতিবেদনের পর শেয়ারবাজারের প্রতিক্রিয়ায় এই বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখানো একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য লাফিয়ে বাড়ে। অন্যদিকে ক্লাউড ব্যবসায় প্রত্যাশার নিচে ফল দেখানো আরেক প্রযুক্তি জায়ান্টের শেয়ার বড় ধাক্কা খায়।

বিনিয়োগকারীর ধৈর্যের সীমা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে প্রথম দিকের সুবিধা নিয়ে একসময় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া একটি প্রযুক্তি কোম্পানি এখন চাপের মুখে। বিপুল মূলধনী ব্যয়ের বিপরীতে আয়ের গতি ধরে রাখা যাচ্ছে কি না, সেটাই বিনিয়োগকারীদের প্রধান প্রশ্ন। তাদের ক্লাউড সেবার আয় সামান্য প্রত্যাশা ছাড়ালেও বাজার কে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

এদিকে আরেক বড় সামাজিক মাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার আয় বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। শেষ প্রান্তিকে তাদের আয় বেড়েছে শক্তভাবে, আর সামনে আরও দ্রুত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রবৃদ্ধিই তাদের বাড়তি বিনিয়োগ ব্যয় কে যৌক্তিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অংশীদারিত্বের ঝুঁকি

এক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়িয়েছে তাদের ঘনিষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। ক্লাউড সেবার ভবিষ্যৎ আয়ের বড় অংশ ওই অংশীদার কেন্দ্রিক হওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে।

প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সরবরাহ সীমাবদ্ধতা তাদের প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা আটকে দিয়েছে। পর্যাপ্ত সক্ষমতা পেলে আয়ের গতি আরও বাড়তে পারত বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন থেকে ব্যয়ে সমন্বয়ের গল্প

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু বিজ্ঞাপনের মান বাড়ছে না, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাও উন্নত করছে। এই যৌথ প্রভাব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আয়ের পথ তৈরি করবে। যদিও চলতি বছরে তাদের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবুও বাজার এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দিকে ও নজর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বৈদ্যুতিক যান ও প্রযুক্তি খাতের আরেক বড় নাম। স্বয়ংক্রিয় যান, মানবসদৃশ রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় ব্যয় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার সঙ্গে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা দেখিয়ে তারা আপাতত বাজারের সমর্থন পেয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে একটি ফাঁক তৈরি হচ্ছে। একদিকে করপোরেট পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় স্বপ্ন, অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিটের দ্রুত ফল পাওয়ার চাপ। এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।