০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
লুকিয়ে থাকা থেকে আশার পথে: বস্তারে মাওবাদী প্রভাব কমার পেছনের বাস্তব চিত্র ব্রিটেনে সহায়ক মৃত্যুর আইন থমকে: জনসমর্থন থাকলেও সংসদে কেন আটকে গেল বিতর্কিত বিল চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা ফ্রিজড মানি ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ

দক্ষিণ আফ্রিকার বন্যার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও লা নিনিয়াকে দোষারোপ

বাংলা উপশিরোনাম ১ — “গবেষণা অতিবৃষ্টিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও লা নিনিয়া সঙ্গে যুক্ত করেছে”
মজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং এসোয়াতিনির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জানুয়ারির শুরুতে অবিরাম বৃষ্টি ও বিধ্বংসী বন্যা দেখা দেয়। বিশ্ব আবহাওয়া দায়িত্বশীলতা গ্রুপের নতুন একটি গবেষণা বলছে, মানুষের কর্মকাণ্ডে উষ্ণ হয়ে ওঠা সমুদ্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাকৃতিক লা নিনিয়া চক্র একসঙ্গে এ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে প্রাক‑শিল্প যুগের তুলনায় এখনকার ভারী বৃষ্টিপাত প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি তীব্র; উষ্ণ মহাসাগরের কারণে বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখে। সেই জলীয় বাষ্প যখন লা নিনিয়ার প্রভাবযুক্ত বৃষ্টির সঙ্গে মেশে, তখন কয়েক দিনের মধ্যেই বছরের সমান বৃষ্টিপাত হয় এবং নদী‑নালা উপচে পড়ে। এ বন্যায় অন্তত ২০০ জন মারা গেছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসল হারিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়েছে, কারণ সেতু ও সড়ক ভেসে গেছে এবং মেরামতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হবে।

বাংলা উপশিরোনাম ২ — “ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোজনের আহ্বান”
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের দুর্বল লা নিনিয়া সত্ত্বেও উষ্ণ সাগর বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। সহ‑লেখক ইজিদিনে পিন্টো বলেন, “মানবসৃষ্ট উষ্ণতা বৃষ্টির ঘটনাকে আরও শক্তিশালী করছে।” তিনি সতর্ক করেন যে কার্বন নির্গমন কমানো না হলে এমন ঝড় ও বন্যার সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। গবেষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে বন্যা সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা এবং কৃষি পদ্ধতি বদলের কথা বলেছেন। তারা ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যারা ইতিহাসের বেশির ভাগ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী—তারা যেন আফ্রিকার মতো অঞ্চলগুলোকে অভিযোজনে সহায়তা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লা নিনিয়া অন্য অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই সমন্বিত জলবায়ু কৌশল প্রয়োজন। দক্ষিণ গোলার্ধ যখন আরও চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে বাস্তব ও ধ্বংসাত্মক; নীতিনির্ধারকদের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

লুকিয়ে থাকা থেকে আশার পথে: বস্তারে মাওবাদী প্রভাব কমার পেছনের বাস্তব চিত্র

দক্ষিণ আফ্রিকার বন্যার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও লা নিনিয়াকে দোষারোপ

১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলা উপশিরোনাম ১ — “গবেষণা অতিবৃষ্টিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও লা নিনিয়া সঙ্গে যুক্ত করেছে”
মজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং এসোয়াতিনির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জানুয়ারির শুরুতে অবিরাম বৃষ্টি ও বিধ্বংসী বন্যা দেখা দেয়। বিশ্ব আবহাওয়া দায়িত্বশীলতা গ্রুপের নতুন একটি গবেষণা বলছে, মানুষের কর্মকাণ্ডে উষ্ণ হয়ে ওঠা সমুদ্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাকৃতিক লা নিনিয়া চক্র একসঙ্গে এ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে প্রাক‑শিল্প যুগের তুলনায় এখনকার ভারী বৃষ্টিপাত প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি তীব্র; উষ্ণ মহাসাগরের কারণে বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখে। সেই জলীয় বাষ্প যখন লা নিনিয়ার প্রভাবযুক্ত বৃষ্টির সঙ্গে মেশে, তখন কয়েক দিনের মধ্যেই বছরের সমান বৃষ্টিপাত হয় এবং নদী‑নালা উপচে পড়ে। এ বন্যায় অন্তত ২০০ জন মারা গেছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসল হারিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়েছে, কারণ সেতু ও সড়ক ভেসে গেছে এবং মেরামতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হবে।

বাংলা উপশিরোনাম ২ — “ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোজনের আহ্বান”
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের দুর্বল লা নিনিয়া সত্ত্বেও উষ্ণ সাগর বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। সহ‑লেখক ইজিদিনে পিন্টো বলেন, “মানবসৃষ্ট উষ্ণতা বৃষ্টির ঘটনাকে আরও শক্তিশালী করছে।” তিনি সতর্ক করেন যে কার্বন নির্গমন কমানো না হলে এমন ঝড় ও বন্যার সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। গবেষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে বন্যা সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা এবং কৃষি পদ্ধতি বদলের কথা বলেছেন। তারা ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যারা ইতিহাসের বেশির ভাগ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী—তারা যেন আফ্রিকার মতো অঞ্চলগুলোকে অভিযোজনে সহায়তা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লা নিনিয়া অন্য অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই সমন্বিত জলবায়ু কৌশল প্রয়োজন। দক্ষিণ গোলার্ধ যখন আরও চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে বাস্তব ও ধ্বংসাত্মক; নীতিনির্ধারকদের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।