ঢাকা, বৃহস্পতিবার। নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও অস্থিরতা তৈরির পেছনে অর্থের বিনিময়ে নিয়োজিত গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তবে এসব প্রচেষ্টা সফল হবে না।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের বক্তব্য
ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সংগঠিত তৎপরতা চলছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উসকানিমূলক ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, সরকার জনগণের অর্থ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যতিক্রমী সহায়তা দিয়েছে। তবে রাষ্ট্র একা সব আর্থিক দায় বহন করতে পারে না। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত দায় ভাগাভাগির নীতির কথাও তিনি তুলে ধরেন।
মুনাফা বিতরণ নিয়ে ব্যাখ্যা
মুনাফা বিতরণ নিয়ে বিভ্রান্তির প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, অতীতের ক্ষতির কারণে কিছু আমানতকারী দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালে চার শতাংশ হারে মুনাফা পেয়েছেন। এর আগে তারা বারো থেকে তেরো শতাংশ পর্যন্ত লাভও পেয়েছিলেন। চলতি বছর থেকে বাজারভিত্তিক মুনাফা কার্যকর হচ্ছে, যা বর্তমানে নয় দশমিক পাঁচ শতাংশ নির্ধারিত। শিগগিরই এই হারেই মুনাফা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ইসলামী ব্যাংকিং মানদণ্ড ও বাস্তবতা
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মানদণ্ড মানা নিয়ে সমালোচনার জবাবে গভর্নর বলেন, বিষয়টি নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার নয়, বরং একটি কার্যকর ব্যাংককে টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন। ব্যাংকই যদি না থাকে, তাহলে মুনাফা প্রদানের প্রশ্নই ওঠে না।
পদত্যাগের গুজব নাকচ
নিজের ছুটি বা পদত্যাগের গুজব সরাসরি অস্বীকার করে গভর্নর বলেন, তিনি কোনো ছুটির আবেদন করেননি এবং ছুটিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাও নেই। এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সংস্কার ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান
গত এক বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আগের চৌদ্দ থেকে পনেরো বছরের তুলনায় বেশি সংস্কার হয়েছে বলে দাবি করেন গভর্নর। অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক বাজার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















