১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
রাজনীতি দায়িত্ব, ব্যবসা নয়: মির্জা ফখরুল স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে সতর্কবার্তা রাবেয়ার, চতুর্থ শিরোপার পথে বাংলাদেশ নারী দল ইইউ দূতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সমর্থনের পুনর্ব্যক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর, সর্বোচ্চ সাড়ে নয় শতাংশ মুনাফা ঘোষণা বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি ছাড়ে কড়া নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গকে সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট আয়কর রিটার্ন জমায় আবার সময় বাড়াল এনবিআর, শেষ তারিখ ফেব্রুয়ারির শেষ দিন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে অর্থ দিয়ে উসকানি: গভর্নর চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ই-নিলাম, বিক্রি হলো ২ হাজার ৮০০ টন অনাবাদি পণ্য সমুদ্রঘেঁষা কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সরানোর সুযোগ নেই: বেবিচক শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতার জেরে ঝিনাইগাতীর ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ই-নিলাম, বিক্রি হলো ২ হাজার ৮০০ টন অনাবাদি পণ্য

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস তাদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক নিলাম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন অনাবাদি ও নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা সংকট কমেছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

বন্দরের জট কমাতে বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই জট কমানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নিয়মিত অনাবাদি পণ্য নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এর অংশ হিসেবে কাস্টমস নিলাম শেডে জমে থাকা পণ্য পর্যায়ক্রমে ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

২ হাজার ৮০০ টনের একক চালান নিলামে

সর্বশেষ নিলামে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত একটি বড় চালান বিক্রির জন্য তোলা হয়। এতে ব্যবহৃত ড্রেজার স্টিল পাইপ, রাবার হোস, বিভিন্ন ফিটিংস ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী ছিল। মোট ওজন ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন, যা পরিমাণের দিক থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় নিলামযোগ্য চালান।

প্রতিযোগিতামূলক দর ও রাজস্ব আদায়

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-নিলাম প্ল্যাটফর্মে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আয়োজিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় মোট ১৩ জন দরদাতা অংশ নেন। সর্বোচ্চ দর উঠে ৯ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ মোট আদায় দাঁড়ায় ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব অর্থ পরিশোধ শেষে সফল দরদাতার কাছে পণ্য হস্তান্তর করা হয়।

কাস্টমস শেডে স্বস্তি, বন্দরে গতি

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিলামের মাধ্যমে নিলাম শেডের বড় একটি জায়গা খালি হয়েছে। ফলে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং বন্দরের পণ্য ওঠানামার কাজ আরও গতিশীল হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের জন্য এসেছে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ই-নিলাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, অনাবাদি ও নিলামযোগ্য পণ্য নিয়মিত ই-নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা সহজ হয় এবং গুদামজাত পণ্যের চাপ কমে। ভবিষ্যতেও সময়মতো নিলাম সম্পন্ন করে বন্দরের দক্ষতা ধরে রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতি দায়িত্ব, ব্যবসা নয়: মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ই-নিলাম, বিক্রি হলো ২ হাজার ৮০০ টন অনাবাদি পণ্য

০৭:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস তাদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক নিলাম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন অনাবাদি ও নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা সংকট কমেছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

বন্দরের জট কমাতে বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই জট কমানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নিয়মিত অনাবাদি পণ্য নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এর অংশ হিসেবে কাস্টমস নিলাম শেডে জমে থাকা পণ্য পর্যায়ক্রমে ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

২ হাজার ৮০০ টনের একক চালান নিলামে

সর্বশেষ নিলামে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত একটি বড় চালান বিক্রির জন্য তোলা হয়। এতে ব্যবহৃত ড্রেজার স্টিল পাইপ, রাবার হোস, বিভিন্ন ফিটিংস ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী ছিল। মোট ওজন ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন, যা পরিমাণের দিক থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় নিলামযোগ্য চালান।

প্রতিযোগিতামূলক দর ও রাজস্ব আদায়

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-নিলাম প্ল্যাটফর্মে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আয়োজিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় মোট ১৩ জন দরদাতা অংশ নেন। সর্বোচ্চ দর উঠে ৯ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ মোট আদায় দাঁড়ায় ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব অর্থ পরিশোধ শেষে সফল দরদাতার কাছে পণ্য হস্তান্তর করা হয়।

কাস্টমস শেডে স্বস্তি, বন্দরে গতি

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিলামের মাধ্যমে নিলাম শেডের বড় একটি জায়গা খালি হয়েছে। ফলে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং বন্দরের পণ্য ওঠানামার কাজ আরও গতিশীল হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের জন্য এসেছে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ই-নিলাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, অনাবাদি ও নিলামযোগ্য পণ্য নিয়মিত ই-নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা সহজ হয় এবং গুদামজাত পণ্যের চাপ কমে। ভবিষ্যতেও সময়মতো নিলাম সম্পন্ন করে বন্দরের দক্ষতা ধরে রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।