বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনোই রাজনীতিকে আয়ের উৎস হিসেবে দেখেননি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে গিয়ে তাঁকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে বাবার রেখে যাওয়া জমি ও বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। তাঁর বাবা চোকা মিয়া ওরফে মির্জা রুহুল আমিনের রেখে যাওয়া জমির বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে, এমনকি বাড়ির সামনের প্লটটিও আর নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি থেকে তিনি কখনো এক টাকাও আয় করেননি। পরিবারের দায়িত্ব পালনে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কঠোর পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিজের জীবনযাপন প্রসঙ্গে জানান, ঢাকায় যে গাড়িটি ব্যবহার করেন, সেটির বয়স প্রায় বিশ বছর, এখনও নতুন গাড়ি কেনার সুযোগ হয়নি। তিনি বলেন, কারও দয়ার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে চান না, বরং কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন।
গত পনেরো বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সময় মানুষ কথা বলার সুযোগ পায়নি, অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে, মামলা মোকদ্দমায় জর্জরিত ছিল। তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।
নির্বাচনের দিগন্তে দৃষ্টি রেখে ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কাজ করে বেঁচে থাকার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিশোধের স্থান নেই বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে, বিমানবন্দর চালু করা হবে এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
২০০১ সালের নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তখন এলাকার মা-বোনেরা ডিম, মুরগি ও শাকসবজি বিক্রির জমানো টাকা দিয়ে মালা বানিয়ে তাঁকে দিয়েছিলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাঁদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী হিসেবে নিজের সময়ের কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগের কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং এখনও ক্ষমা চায়নি, তারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত শুধু ১৯৭১ সালেই নয়, ইতিহাস বলছে ১৯৪৭ সালেও তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিল। এই ইতিহাস অনেকেই জানেন না, যদিও বইয়ে তা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দল বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তায় বিশ্বাসী নয়, তারা ক্ষমতায় এলে জনগণের উপকার হবে কি না। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, তাদের সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কোনো এলাকা তখনই উন্নত হয়, যখন সেখানে সৎ, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসে। নেতৃত্ব ভালো হলে উন্নয়ন আপনাআপনি আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে টানা ১৭ বছরে ১১৭টি মিথ্যা মামলাসহ নানা হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এত কিছুর পরও তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি এবং জনগণের পাশেই ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















