ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া প্রাথমিক সরকারি নথিতে দেখা যাচ্ছে, মিনিয়াপলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক আলেক্স প্রেটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন—এমন কোনো উল্লেখ নেই। অথচ ঘটনার পরপরই তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে সশস্ত্র হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। এই দুই অবস্থানের স্পষ্ট বৈপরীত্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় কী বলা হয়েছে
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের দায়িত্বশীলতা কার্যালয়ের প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৩৭ বছর বয়সী আলেক্স প্রেটিকে একজন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট ও একজন কাস্টমস কর্মকর্তা গুলি করেন। নথিতে বলা হয়, এক কাস্টমস কর্মকর্তার নির্দেশে রাস্তা ছেড়ে সরে যেতে বলা হলেও প্রেটি ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক নারী সরে যাননি। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভিডিও ফুটেজে ভিন্ন চিত্র
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গুলির আগেই প্রেটির কোমর থেকে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র খুলে নেওয়া হয়েছিল এবং সেটি হোলস্টারেই ছিল। কিন্তু ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল নিয়ে কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। এই বক্তব্য ভিডিও প্রমাণের সঙ্গে মিলছে না বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।
সংঘর্ষ ও গুলির মুহূর্ত
পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেটিকে হেফাজতে নিতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময় এক এজেন্ট বারবার চিৎকার করে বলেন, তাঁর কাছে বন্দুক আছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তা গুলি চালান। পুরো বিষয়টি বডি-ক্যামেরার ফুটেজ ও অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য ও জনরোষ
ঘটনার পর প্রেটিকে আক্রমণকারী ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন আইসিইউ নার্স হিসেবে কাজ করা প্রেটির মৃত্যু দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়। স্মৃতিস্তলে ক্রুশ ও স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে মানুষ জড়ো হতে থাকে, যা এই ঘটনার মানবিক দিকটিকে সামনে আনে।
স্বচ্ছতার দাবি
কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের মুখপাত্র জানান, এ ধরনের প্রাথমিক নোটিফিকেশন কেবল ঘটনার একটি রূপরেখা দেয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তবু আইনপ্রণেতা ও নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, প্রশাসনের প্রাথমিক বক্তব্য ও বাস্তব প্রমাণের ব্যবধান গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















