সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বোচ্চ সাড়ে নয় শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে রাখা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেই এই মুনাফা প্রযোজ্য হবে।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সব আমানতকারীর জন্য বাজারদরের ভিত্তিতে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব আমানত এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছে, সেগুলোর ওপর এই হার কার্যকর হবে।
আগের সময়ের মুনাফা হার কী হবে
গভর্নর জানান, দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালের জন্য আমানতকারীরা চার শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। যেসব আমানত এখনই পুরোপুরি ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়, সেগুলোর ওপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে নয় শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ জানুয়ারির মুনাফা আমানতকারীরা ফেব্রুয়ারিতে হাতে পাবেন।
মাসিক সঞ্চয় স্কিমে সুবিধা
মাসিক সঞ্চয় স্কিমে যাঁরা অর্থ জমা রেখেছেন, তাঁরা প্রতি মাসেই মুনাফা পাবেন বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, মাসিক মুনাফার পুরো অর্থই উত্তোলন করা যাবে এবং আগের মাসের মুনাফা প্রতি মাসের শুরুতেই পরিশোধ করা হবে।
একসঙ্গে টাকা ফেরত সম্ভব নয়
সব আমানতকারীর টাকা একসঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করেন গভর্নর। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একবারে সব টাকা ছাড় দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ধাপে ধাপে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থ পরিশোধ করা হবে।
গুজব ও অপপ্রচারের অভিযোগ
এই সংবাদ সম্মেলনের পেছনে কারণ হিসেবে গভর্নর জানান, কিছু ব্যক্তি ও ব্যাংকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া মুনাফা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি একটি সদিচ্ছার সিদ্ধান্ত।
ব্যাংক একীভূত হওয়ার পটভূমি
ঋণখেলাপি ও আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ক্ষতির কারণে দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালে কোনো মুনাফা দেওয়া যাবে না। পরে সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত বদলে চার শতাংশ মুনাফা অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ব্যয় প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার কোটি টাকা।
অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত
গভর্নর আরও জানান, অবসায়নের পথে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা শুধু মূল টাকা ফেরত পাবেন, সেখানে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।
শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারিতে
ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু শাখায় বিশৃঙ্খলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেই নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















