বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিমানের প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকা থেকে করাচির সরাসরি রুট চালু করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই ফ্লাইটকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম ফ্লাইটে পূর্ণ যাত্রী, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে উদ্বোধনী ফ্লাইটটি। যাত্রীতে পূর্ণ এই ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
যোগাযোগ ও পর্যটন বাড়ানোর প্রত্যাশা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা–করাচি সরাসরি রুট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এতে পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং ভাড়া কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী করা হবে।
পাকিস্তান ভ্রমণের আহ্বান
উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের স্বাদ নিতে দেশটি ভ্রমণ করেন। এই রুট চালু হলে ব্যবসা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
দুই দেশের নেতৃত্বের দূরদর্শী উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরিফের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই দুই দেশের মধ্যে এই সরাসরি সংযোগ সম্ভব হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা
হাইকমিশনার এই ফ্লাইট চালু করতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।
যাত্রীদের উচ্ছ্বাস
উদ্বোধনী ফ্লাইটে যাত্রা করা যাত্রীরা সরাসরি আকাশপথ পুনরায় চালু হওয়ায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















