০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের বন্ধন আরও দৃঢ়, পাঁচ সমঝোতা স্মারকে নতুন দিগন্ত

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্ব পূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কুয়েত সফররত আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় সংযুক্ত উচ্চ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক। কুয়েতের পক্ষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আলি আল ইয়াহিয়া।

ভ্রাতৃত্বের প্রতীকী বৈঠক
কুয়েতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে আয়োজিত হয়, যখন আমিরাত জুড়ে কুয়েতের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উদযাপন শুরু হয়েছে। আজ থেকে এক সপ্তাহ ধরে চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি, যার মূল ভাবনা দুই দেশ চিরকাল ভাই। শেখ আবদুল্লাহ তার বক্তব্যের শুরুতেই কুয়েতে উপস্থিত হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমিরাত ও কুয়েতের সম্পর্ক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও ঐতিহাসিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় সম্পর্কের অগ্রগতি
তিনি জানান, আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহর নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা এই আস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ও শেখ সাবাহ আল সালেম আল সাবাহ।

বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে রেকর্ড অগ্রগতি
শেখ আবদুল্লাহ জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। উপসাগরীয় ও আরব দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত কুয়েতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, আর বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বৃহত্তম। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সঙ্গে কুয়েতের মোট বাণিজ্যের বড় অংশই হয় আমিরাতের সঙ্গে।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার দৃষ্টান্ত
স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে দুই দেশের সমন্বয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে, যা পারস্পরিক আস্থা ও দক্ষতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন শেখ আবদুল্লাহ।

ভবিষ্যৎ খাতে যৌথ অগ্রযাত্রা
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে কুয়েতের ঐতিহাসিক সহায়তার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পাঁচ সমঝোতা স্মারকে সই
বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ উচ্চ কমিটির ষষ্ঠ অধিবেশনের কার্যবিবরণীতে সই করেন। একই সঙ্গে ভোক্তা সুরক্ষা, পর্যটন, মান নির্ধারণ, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি খাতের নিরীক্ষা ও তদারকি সংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও বাস্তবায়ন কর্মসূচি স্বাক্ষরিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের বন্ধন আরও দৃঢ়, পাঁচ সমঝোতা স্মারকে নতুন দিগন্ত

০১:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্ব পূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কুয়েত সফররত আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় সংযুক্ত উচ্চ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক। কুয়েতের পক্ষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আলি আল ইয়াহিয়া।

ভ্রাতৃত্বের প্রতীকী বৈঠক
কুয়েতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে আয়োজিত হয়, যখন আমিরাত জুড়ে কুয়েতের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উদযাপন শুরু হয়েছে। আজ থেকে এক সপ্তাহ ধরে চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি, যার মূল ভাবনা দুই দেশ চিরকাল ভাই। শেখ আবদুল্লাহ তার বক্তব্যের শুরুতেই কুয়েতে উপস্থিত হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমিরাত ও কুয়েতের সম্পর্ক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও ঐতিহাসিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় সম্পর্কের অগ্রগতি
তিনি জানান, আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহর নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা এই আস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ও শেখ সাবাহ আল সালেম আল সাবাহ।

বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে রেকর্ড অগ্রগতি
শেখ আবদুল্লাহ জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। উপসাগরীয় ও আরব দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত কুয়েতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, আর বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বৃহত্তম। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সঙ্গে কুয়েতের মোট বাণিজ্যের বড় অংশই হয় আমিরাতের সঙ্গে।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার দৃষ্টান্ত
স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে দুই দেশের সমন্বয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে, যা পারস্পরিক আস্থা ও দক্ষতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন শেখ আবদুল্লাহ।

ভবিষ্যৎ খাতে যৌথ অগ্রযাত্রা
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে কুয়েতের ঐতিহাসিক সহায়তার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পাঁচ সমঝোতা স্মারকে সই
বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ উচ্চ কমিটির ষষ্ঠ অধিবেশনের কার্যবিবরণীতে সই করেন। একই সঙ্গে ভোক্তা সুরক্ষা, পর্যটন, মান নির্ধারণ, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি খাতের নিরীক্ষা ও তদারকি সংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও বাস্তবায়ন কর্মসূচি স্বাক্ষরিত হয়।