১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাজ্য–চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ‘পরিণত সম্পর্ক’ গড়ার বার্তা স্টারমারের উত্তরাধিকার, রাষ্ট্র ও সংবাদমাধ্যমে এক আলোকিত নাম ড. আবদুল্লাহ ওমরান তারিয়াম বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ডাক জামায়াত আমিরের ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান: “হাঁস যেন শিয়ালের বাচ্চা চুরি করতে না পারে” — রুমিন ফারহানা শীত আবার জাঁকিয়ে বসার ইঙ্গিত ফেরি উদ্বোধনের দিনে হাতিয়ায় বিএনপি–এনসিপি মুখোমুখি, সংঘর্ষে আহত বহু ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের শঙ্কা, ইউরোপের কড়া সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে

জামায়াত জোটে থেকেও সংস্কার অবস্থানে অনড় এনসিপি: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিলেও নিজেদের সংস্কারমূলক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই জোট কেবল নির্বাচনী সমঝোতা, আদর্শিক অবস্থান ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি শুরু থেকেই যে পথে রয়েছে, সেখানেই তারা অনড়।

গোলশানে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটটি গড়ে উঠেছে ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত হওয়া মানেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভাবনা থেকে সরে যাওয়া নয়। এনসিপি শুরু থেকেই যে সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে আসছে, সেই অঙ্গীকার অক্ষুণ্ন রয়েছে।

আলাদা ইশতেহারে সংস্কারের বার্তা
নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের অংশ হয়েও আলাদা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে অটল। একসঙ্গে নির্বাচন করলেও জোটের প্রতিটি দলের রাজনৈতিক দর্শন ও লক্ষ্য আলাদা থাকতে পারে, এবং সেটিই এনসিপির ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শহীদ মিনারে দেওয়া তার বক্তব্যে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও পাঁচ দশকের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল, সেখান থেকেই এনসিপির রাজনীতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সেই রাজনৈতিক দর্শন আজও অপরিবর্তিত।

জোট নিয়ে বিতর্ক, অবস্থান অপরিবর্তিত
জোট গঠনের পর থেকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সমর্থন ও বিরোধিতা—দুই দিক থেকেই আলোচনা হয়েছে, তবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের যে দাবি নিয়ে এনসিপি যাত্রা শুরু করেছিল, তা বদলায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে জোটের ভেতর থেকেই এনসিপি নিজেদের ইশতেহারের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে কাজ করবে। এ কারণেই এনসিপি যেমন আলাদা ইশতেহার দিয়েছে, তেমনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও পৃথক ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।

গণভোটে সংস্কারের সম্ভাবনা
নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, অতীতে অনেক সুযোগ নষ্ট হলেও এখনও বড় ধরনের সংস্কার সম্ভব। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় গণভোটের মাধ্যমে যেসব সংস্কার অঙ্গীকার আদায় করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জনগণের প্রতি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে পরিবর্তনের সুযোগ এখনো শক্তভাবে বিদ্যমান। এনসিপির কাছে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কেবল একটি নির্বাচনী লক্ষ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রাম। সেই লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিক রাজনৈতিক পথচলাই একমাত্র উপায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্য–চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ‘পরিণত সম্পর্ক’ গড়ার বার্তা স্টারমারের

জামায়াত জোটে থেকেও সংস্কার অবস্থানে অনড় এনসিপি: নাহিদ

০৮:৪১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিলেও নিজেদের সংস্কারমূলক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই জোট কেবল নির্বাচনী সমঝোতা, আদর্শিক অবস্থান ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি শুরু থেকেই যে পথে রয়েছে, সেখানেই তারা অনড়।

গোলশানে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটটি গড়ে উঠেছে ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত হওয়া মানেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভাবনা থেকে সরে যাওয়া নয়। এনসিপি শুরু থেকেই যে সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে আসছে, সেই অঙ্গীকার অক্ষুণ্ন রয়েছে।

আলাদা ইশতেহারে সংস্কারের বার্তা
নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের অংশ হয়েও আলাদা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে অটল। একসঙ্গে নির্বাচন করলেও জোটের প্রতিটি দলের রাজনৈতিক দর্শন ও লক্ষ্য আলাদা থাকতে পারে, এবং সেটিই এনসিপির ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শহীদ মিনারে দেওয়া তার বক্তব্যে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও পাঁচ দশকের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল, সেখান থেকেই এনসিপির রাজনীতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সেই রাজনৈতিক দর্শন আজও অপরিবর্তিত।

জোট নিয়ে বিতর্ক, অবস্থান অপরিবর্তিত
জোট গঠনের পর থেকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সমর্থন ও বিরোধিতা—দুই দিক থেকেই আলোচনা হয়েছে, তবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের যে দাবি নিয়ে এনসিপি যাত্রা শুরু করেছিল, তা বদলায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে জোটের ভেতর থেকেই এনসিপি নিজেদের ইশতেহারের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে কাজ করবে। এ কারণেই এনসিপি যেমন আলাদা ইশতেহার দিয়েছে, তেমনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও পৃথক ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।

গণভোটে সংস্কারের সম্ভাবনা
নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, অতীতে অনেক সুযোগ নষ্ট হলেও এখনও বড় ধরনের সংস্কার সম্ভব। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় গণভোটের মাধ্যমে যেসব সংস্কার অঙ্গীকার আদায় করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জনগণের প্রতি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে পরিবর্তনের সুযোগ এখনো শক্তভাবে বিদ্যমান। এনসিপির কাছে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কেবল একটি নির্বাচনী লক্ষ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রাম। সেই লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিক রাজনৈতিক পথচলাই একমাত্র উপায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।