সংযুক্ত আরব আমিরাতে মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ যদি প্রবেশনারি সময়ে চাকরি হারান, তাহলে নিয়োগকর্তাকে নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম মেনেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিধান অনুযায়ী, প্রবেশনারি সময় সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে এবং এই সময়ের মধ্যেই চাকরি বাতিল করা হলে কর্মীকে আগাম লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
প্রবেশনারি সময়ে নোটিশের বাধ্যবাধকতা
বর্তমান আইনে বলা হয়েছে, প্রবেশনারি চলাকালে কোনো কর্মীর চাকরি বাতিল করতে চাইলে নিয়োগকর্তাকে অন্তত চৌদ্দ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হবে। এই নোটিশ ছাড়া চাকরি বাতিল করা হলে তা আইনসম্মত বলে গণ্য হবে না। ফলে প্রবেশনারি হলেও কর্মী সম্পূর্ণভাবে আইনের সুরক্ষার বাইরে নন।
শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত সব পাওনা পরিশোধ
চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নিয়োগকর্তাকে শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত সব প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে বকেয়া বেতন, প্রযোজ্য হলে জমে থাকা ছুটির অর্থমূল্য এবং নোটিশ সময়ের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রবেশনারি সময়েই যদি বার্ষিক ছুটির কিছু অংশ কর্মী ব্যবহার করে থাকেন, তবে অব্যবহৃত ছুটির অর্থও পাওনা হিসেবে দিতে হবে।
অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়ার আইনি দায়িত্ব
চাকরির চুক্তি শেষ হওয়ার পর কর্মীর অনুরোধে নিয়োগকর্তাকে অভিজ্ঞতার সনদ দিতে হবে। এই সনদে কর্মীর কাজ শুরুর তারিখ, শেষ হওয়ার তারিখ, মোট চাকরির মেয়াদ, পদবি বা দায়িত্ব, শেষ প্রাপ্ত বেতন এবং চাকরি শেষ হওয়ার কারণ উল্লেখ থাকতে হবে। তবে সনদে এমন কোনো তথ্য রাখা যাবে না যা কর্মীর সুনাম ক্ষুণ্ন করে বা ভবিষ্যতে নতুন চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
আইন মানলেই চাকরি বাতিল বৈধ
সব মিলিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মসংস্থান আইনের অধীনে প্রবেশনারি সময়ে চাকরি বাতিল করা বৈধ, যদি নিয়োগকর্তা চৌদ্দ দিনের আগাম লিখিত নোটিশ দেন এবং কর্মীর সব আর্থিক পাওনা ও আইনি অধিকার যথাযথভাবে পরিশোধ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















