দুবাইয়ের মেইদান রেসকোর্সে শুক্রবারের রেসিং কার্নিভাল বদলে দিল পরিচিত হিসাব। আন্তর্জাতিক ঘোড়দৌড়বিদদের দাপটে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে গেল ঘরের শক্তিশালী শিবির। নাটকীয় এই রাতে দর্শকরা দেখলেন অপ্রত্যাশিত জয়, টানটান লড়াই আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ, যা আবারও প্রমাণ করল কেন এই কার্নিভাল বিশ্ব ঘোড়দৌড়ের অন্যতম বড় মঞ্চ।
কার্নিভালের মোড় ঘুরে গেল যেভাবে
ডিপি ওয়ার্ল্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত আটটি রেসে ছয়টিতেই ফেবারিট নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রভাবশালী প্রশিক্ষক চার্লি অ্যাপলবি। তবে প্রত্যাশিত আধিপত্য দেখা গেল না। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রতিদ্বন্দ্বীরা দেখিয়ে দিল আন্তর্জাতিক সার্কিট কতটা গভীর আর প্রতিযোগিতাময়। স্থানীয় প্রশিক্ষকদের মধ্যে কেবল ডগ ওয়াটসন ও ভূপাত সিমার নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছেন।
ডুবাই মিলেনিয়াম স্টেকসে বড় চমক
রাতের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে গ্রুপ থ্রি ডুবাই মিলেনিয়াম স্টেকসে। টানা সাতবার এই রেস জেতা অ্যাপলবির ঘোড়াদের আধিপত্য এবার ভেঙে যায়। যুক্তরাজ্যের প্রশিক্ষক এড ওয়াকারের অধীনে থাকা ফোর্ট জর্জ নাকের ডগায় হারিয়ে দেয় অ্যাপলবির অ্যারাবিয়ান লাইটকে। শেষ ল্যাপে নাটকীয় লড়াইয়ে দর্শকদের দাঁড়িয়ে করিয়ে দেয় এই জয়।
জয়ের পর উচ্ছ্বাস আর পরিকল্পনার কথা
ব্রিটিশ জকি কিরান শুমার্ক জানান, মেইদানে আসার পর থেকেই ফোর্ট জর্জের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। শেষ দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী এগিয়ে গেলেও ঘোড়াটি দারুণ লড়াই করে ফিরে আসে। মালিক ডক্টর জিম হে বলেন, লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ রাত পর্যন্ত ঘোড়াটিকে এখানে রাখা, আর সেই পরিকল্পনাই এখন এগোবে।
ইউরোপের ধারাবাহিক সাফল্য
ডেনমার্কের জন্য রাতটি ছিল স্মরণীয়। তিন বছর বয়সী মাদি ঘোড়াদের মাওজ স্টেকসে তাইফু শেষ দিক থেকে উঠে এসে ফেয়ারি ওককে হারায়। এটি তার টানা তৃতীয় জয়। জকি অলিভার উইলসনের এটি ছিল প্রথম কার্নিভাল জয়, আর প্রশিক্ষক সোরেন জেনসেনের দ্বিতীয়। পরে ডুবাই স্প্রিন্টে বেন্ট ওলসেনের প্রশিক্ষণে গ্রেট উইশ জয় পায়, মাঝপথ থেকে দারুণ নিয়ন্ত্রণে রেখে জয়ের পথে নিয়ে যান ফরাসি জকি মিকায়েল বারজালোনা।
একই রাতে দ্বৈত সাফল্য
সাইমন ও এড ক্রিসফোর্ডের পিতা পুত্র জুটি রাতে একমাত্র দ্বৈত জয় তুলে নেয়। জুমেইরা গিনিজ ট্রায়ালে টাইটেল রোল নিয়ন্ত্রিত গতিতে এগিয়ে গিয়ে জেতে। পরে ডিপি ওয়ার্ল্ড লজিস্টিক্স হ্যান্ডিক্যাপে টেলিমার্ক অল্প ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। চলতি মৌসুমে এটি তাদের নবম জয়, যা ধারাবাহিক পরিকল্পনা আর রেস দিনের নিখুঁত বাস্তবায়নের প্রমাণ।
শেষ মুহূর্তের লড়াই আর স্থানীয় উপস্থিতি
জেমি ও স্যাফি অসবর্নের দল দেরিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুবাই অটো মার্কেট হ্যান্ডিক্যাপে দ্য ফিঙ্গাল রেভেনকে জেতায়। স্থানীয় প্রশিক্ষকরা সালুম ও ট্যাপ লিডারকে সামনে এনে নিজেদের শক্তি জানান দেন, বিশেষ করে ট্যাপ লিডারের এটি ছিল আমিরাতে অভিষেক জয়।
শেষ কথা
শুক্রবারের কার্নিভাল স্পষ্ট করে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন স্থানীয় আধিপত্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত। গভীর প্রতিযোগিতায় মেইদানের রাত হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত কিন্তু ভীষণ উত্তেজনাপূর্ণ। আগামী শুক্রবার আবার ফিরছে এই কার্নিভাল, অপেক্ষা নতুন চমকের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















