০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
পাঞ্জাবে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক, ‘গুরু দোখি’ ঘোষণা ভগবন্ত মানকে তৃণমূলে বড় ভাঙনের আশঙ্কা, ২০ সাংসদের এনসিপিআইতে যোগদানের দাবি; আদালতে ভবানীপুর ফল চ্যালেঞ্জ মমতার মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরের পথে পাঁচ জাহাজ, দাবি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ডিম-ক্ষোভে আবারও টিএমসি নেতা নিশানায়, গ্রেপ্তারের পর সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১ বাংলাদেশে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫৭ ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, জুনেই অবমুক্তির সিদ্ধান্ত চায়ের কাপেই বিশ্বায়নের গল্প: নতুন যুগে কেন আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন ন্যায়বিচারের আগে কি ভাইরাল ভিডিও জরুরি? আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পাঁচ বছরের মূল্য

নির্বাসিত সরকারের প্রভাব হারানোর গল্প

পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীরা যে নির্বাসিত সরকার গঠন করেছিল, আজ তা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে বসেছে। সামরিক জান্তা বিরোধী সেই ছায়া সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারা আদৌ দেশের রাজনীতিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে কি না।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে সাম্প্রতিক নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে মানুষের লাইন দেখা গেলেও বিরোধীরা একে ভুয়া ও সাজানো নির্বাচন বলেই আখ্যা দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই ধাপে ধাপে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফল হিসেবে যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, সেটিকে জান্তারই ছায়া সংগঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাসনে গড়া স্বপ্নের সরকার

অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের নেতারা বিদেশে বসেই একটি বিকল্প সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। তারা নিজেদের দেশের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। বিদেশে অফিস খোলা হয়, তহবিল সংগ্রহ করা হয়, এমনকি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধের পরিকল্পনা ও নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।

কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ছায়া সরকারের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদাসীনতা কাটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচ বছরে সামরিক দমন পীড়নে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও বিশ্বরাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি এই সরকার।

মাঠের বাস্তবতা আর নেতৃত্বের সংকট

দেশের ভেতরে বিদ্রোহী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু সাফল্য পেলেও সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছায়া সরকারের হাতে নেই। অনেক যোদ্ধা অভিযোগ করছেন, প্রয়োজনীয় অর্থ ও অস্ত্র তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন, কয়েক ডজন গুলি নিয়েই টিকে থাকতে হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, নির্বাসিত সরকার বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। নেতৃত্বের অভাব, আর্থিক স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতির কারণে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে।

বিতর্কিত নির্বাচন ও কম ভোটার উপস্থিতি

সামরিক সরকারের ঘোষিত নির্বাচনে বিরোধীরা অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানায়। সামরিক কর্তৃপক্ষ ভোটার উপস্থিতি অর্ধেকের বেশি দাবি করলেও ছায়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী বড় শহরগুলোতে প্রকৃত উপস্থিতি ছিল অনেক কম। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক সরকার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পেরেছে, আর নির্বাসিত সরকার সেটির কার্যকর মোকাবিলা করতে পারেনি।

ভেতর থেকে ওঠা অসন্তোষ

গণতন্ত্র পন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যে হতাশা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, দেশের বাইরে বসে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আবার কেউ মনে করেন, সংস্কার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও বাস্তবমুখী হওয়া জরুরি। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন এখনও দেখা যায়নি।

তবু পুরোপুরি অকার্যকর নয়

সব সমালোচনার মধ্যেও অনেকের মত, এই ছায়া সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ নয়। প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সীমিত পরিসরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সামরিক শাসনের মতো শক্ত ভিতের এক ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে সময় লাগবে বলেই মনে করেন আন্দোলনের অভিজ্ঞ নেতারা।

শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, নির্বাসিত সরকার এখনও আছে, কিন্তু মানুষের আশা ও প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের কার্যক্রমের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঞ্জাবে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক, ‘গুরু দোখি’ ঘোষণা ভগবন্ত মানকে

নির্বাসিত সরকারের প্রভাব হারানোর গল্প

১২:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীরা যে নির্বাসিত সরকার গঠন করেছিল, আজ তা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে বসেছে। সামরিক জান্তা বিরোধী সেই ছায়া সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারা আদৌ দেশের রাজনীতিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে কি না।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে সাম্প্রতিক নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে মানুষের লাইন দেখা গেলেও বিরোধীরা একে ভুয়া ও সাজানো নির্বাচন বলেই আখ্যা দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই ধাপে ধাপে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফল হিসেবে যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, সেটিকে জান্তারই ছায়া সংগঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাসনে গড়া স্বপ্নের সরকার

অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের নেতারা বিদেশে বসেই একটি বিকল্প সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। তারা নিজেদের দেশের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। বিদেশে অফিস খোলা হয়, তহবিল সংগ্রহ করা হয়, এমনকি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধের পরিকল্পনা ও নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।

কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ছায়া সরকারের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদাসীনতা কাটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচ বছরে সামরিক দমন পীড়নে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও বিশ্বরাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি এই সরকার।

মাঠের বাস্তবতা আর নেতৃত্বের সংকট

দেশের ভেতরে বিদ্রোহী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু সাফল্য পেলেও সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছায়া সরকারের হাতে নেই। অনেক যোদ্ধা অভিযোগ করছেন, প্রয়োজনীয় অর্থ ও অস্ত্র তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন, কয়েক ডজন গুলি নিয়েই টিকে থাকতে হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, নির্বাসিত সরকার বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। নেতৃত্বের অভাব, আর্থিক স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতির কারণে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে।

বিতর্কিত নির্বাচন ও কম ভোটার উপস্থিতি

সামরিক সরকারের ঘোষিত নির্বাচনে বিরোধীরা অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানায়। সামরিক কর্তৃপক্ষ ভোটার উপস্থিতি অর্ধেকের বেশি দাবি করলেও ছায়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী বড় শহরগুলোতে প্রকৃত উপস্থিতি ছিল অনেক কম। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক সরকার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পেরেছে, আর নির্বাসিত সরকার সেটির কার্যকর মোকাবিলা করতে পারেনি।

ভেতর থেকে ওঠা অসন্তোষ

গণতন্ত্র পন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যে হতাশা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, দেশের বাইরে বসে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আবার কেউ মনে করেন, সংস্কার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও বাস্তবমুখী হওয়া জরুরি। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন এখনও দেখা যায়নি।

তবু পুরোপুরি অকার্যকর নয়

সব সমালোচনার মধ্যেও অনেকের মত, এই ছায়া সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ নয়। প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সীমিত পরিসরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সামরিক শাসনের মতো শক্ত ভিতের এক ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে সময় লাগবে বলেই মনে করেন আন্দোলনের অভিজ্ঞ নেতারা।

শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, নির্বাসিত সরকার এখনও আছে, কিন্তু মানুষের আশা ও প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের কার্যক্রমের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।