মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নতুনভাবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক সুযোগ পান। ২০২৫ সালে প্রবেশের সময় তেহরান ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার ভারে অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। সিরিয়ার নেতা বাশার আল-আসাদের পতন এবং ইসরায়েলের হিজবুল্লাহ ও হামাসের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক অভিযানের ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল। ফলে ওয়াশিংটনের হাতে বাস্তব চাপের শক্তি ছিল—নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা আরোপ করে নতুন চুক্তি করা, টানা চাপ ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শাসন পরিবর্তনের পথে এগোনো, অথবা অন্য চ্যালেঞ্জে অগ্রাধিকার দিয়ে তেহরানকে সীমাবদ্ধ রাখাই যথেষ্ট—এমন নানা পথ খোলা ছিল।
কিন্তু প্রথম বছরেই ট্রাম্প তিনটি পথ একসঙ্গে অনুসরণ করেন। একদিকে তিনি তেহরানের সঙ্গে চুক্তির আগ্রহের সংকেত দেন, অন্যদিকে ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরুর সবুজ সংকেত দেন—যুদ্ধে পরে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। গত জুনে নাতানজ ও ফোর্দোর পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন এবং আগ্রহ হারিয়েছেন বলে মনে হয়। এখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন অভিযানের জবাবে—যে বিক্ষোভে ট্রাম্প নিজেই আগুন জুগিয়েছিলেন—ইরানের ভেতরে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের কথাও ভাবছেন তিনি। এই অস্থির পন্থার ফল হয়েছে পরস্পরবিরোধী। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে, কিন্তু অবশিষ্ট কর্মসূচির ওপর নজরদারি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। শাসনব্যবস্থা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভঙ্গুর—কিন্তু সেই ভঙ্গুরতার সঙ্গেই এসেছে ভয়াবহ দমন-পীড়ন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সুশৃঙ্খল বা ইতিবাচক ক্ষমতা হস্তান্তরের চেয়ে বিশৃঙ্খলা, গণহিংসা ও অস্থিতিশীলতাই অন্তত সমানভাবে সম্ভাব্য। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে মাঝেমধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকিই নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত জিমি কার্টারের পর ইরানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন নাকি কেবল অস্থিরতাকে ত্বরান্বিত করবেন—তা নির্ভর করবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একটি সুসংহত কৌশল গড়তে তার প্রশাসন পারে কি না। সামরিক সংযম, অর্থনৈতিক চাপ ও বিরোধীদের সহায়তা—এই তিনটির সুষম সমন্বয়, পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখলে—ইরানি জনগণ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য উপকারী একটি নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু খণ্ডিত পন্থা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা ইরানকে আরও অস্থিতিশীল করবে এবং ইরানিদের দুর্ভোগ বাড়াবে।
পরিকল্পনাহীন একজন মানুষ
গত এক বছরে ট্রাম্পের ইরান নীতি তিনটি পৃথক পর্যায়ে এগিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে, ২০২৫ সালের শুরুতে, নতুন করে চাপের সঙ্গে অনুসন্ধানী কূটনীতি যুক্ত হয়। ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন, কিন্তু আগের প্রশাসনের শেষ দিকের তুলনায় প্রয়োগ জোরদার করেননি। মার্চে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়ে সরাসরি পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তাব দেন। এরপর পাঁচ দফা আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আলোচনায় গুরুত্ব দিলেও তা আবহের বাইরে এগোয়নি। প্রকাশ্য ভঙ্গি সত্ত্বেও কেউই চুক্তির কাছাকাছি ছিল না। ট্রাম্প ফল যা-ই হোক নিজেকে চুক্তিবাজ হিসেবে তুলে ধরেই সন্তুষ্ট ছিলেন; আর তেহরান বাস্তব চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় না দিয়ে খোলা মনোভাবের সংকেত দিতে আলোচনা ব্যবহার করেছে।
এই কূটনৈতিক বিরতি হঠাৎ শেষ হয় জুনে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রক্সি সংঘাত সরাসরি ১২ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। ইসরায়েল দাবি করে, ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি থামাতে আগাম হামলা দরকার ছিল; তবে গভীর কারণ ছিল হামাসের ৭ অক্টোবরের আক্রমণ। গাজায় নিষ্ঠুর যুদ্ধ, লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার সফল অভিযান এবং ২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে দু’টি সীমিত সংঘাতের পর ইসরায়েল মনে করে তেহরানের প্রতিরোধক্ষমতা ফাঁপা। ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়; শীর্ষ কমান্ডারদের পাশাপাশি ৯০০–এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরায়েলের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়; প্রায় ৪০ বেসামরিক নিহত হন এবং হাজার হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়। আগের প্রেসিডেন্টরা যেখানে ইসরায়েলকে সংযত করেছিলেন, ট্রাম্প আগেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হামলার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। ২১ জুন ট্রাম্প প্রশাসন আরও এক ধাপ এগিয়ে বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে সরাসরি যুদ্ধে নামে—যে অস্ত্র ইসরায়েলের ছিল না। তিন দিন পর হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি করায়। ট্রাম্প দাবি করেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে। বাস্তবে হামলাগুলো ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হলেও ইউরেনিয়াম মজুদের কী হয়েছে—তা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা রয়ে যায়। জুলাইয়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়, ফলে কর্মসূচি নিয়ে বাইরের নজরদারি আরও অস্বচ্ছ হয়ে ওঠে।
ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ১২ দিনের যুদ্ধ ছিল এক সাফল্য। তিনি সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়েছেন বলে গর্ব করেন। ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যই আসল বিজয়ী; উভয় পক্ষই ভালোবাসা, শান্তি ও সমৃদ্ধি দেখবে। নীরবে প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেয়—যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়িয়েই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ইসরায়েলের শিক্ষা ছিল ভিন্ন—তারা তুলনামূলক দায়মুক্তিতে ইরানে আঘাত হানতে পারে। ইরানি নেতৃত্ব অপমানজনক ও গুরুতর ধাক্কা খেলেও কৌশল বদলায়নি।
শেষ পর্যায় আসে ২০২৬ সালের শুরুতে, যখন অর্থনৈতিক পতন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাম্প দ্রুতই নিজেকে জড়িয়ে পড়েন—প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি না করার সতর্কতা দেন এবং সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র গোপন অভিযানে ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে বিশ্বকে চমকে দেয়। ইরানিদের কাছে বার্তা স্পষ্ট ছিল—শাসন পড়তে পারে, এবং ওয়াশিংটন ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

বিক্ষোভ তীব্র হয়। তারপর শুরু হয় দমন অভিযান। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অন্তত পাঁচ হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে; মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থার মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ২০২৫ সালের মতোই ট্রাম্প কূটনীতি ও আগ্রাসনের মধ্যে দোলাচল করেন। তিনি নতুন পারমাণবিক আলোচনার কথা বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেন, আবার ট্রুথ সোশালে ইরানিদের উদ্দেশে লেখেন—প্রতিবাদ চালিয়ে যাও, প্রতিষ্ঠান দখল করো—এমন সময়ে যখন মার্কিন নৌবাহিনী উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং ‘সহায়তা আসছে’ বলা হচ্ছিল—কিন্তু তাদের রক্ষা বা সহায়তার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিক্ষোভ চূড়ায় পৌঁছালে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিকদের হত্যা শুরু করলে, মার্কিন বাহিনী তখনও অঞ্চলজুড়ে যথাযথভাবে মোতায়েন ছিল না।
এই অস্থির বছরে একের পর এক বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। ১৯৭৯ সালের পর শাসন পরিবর্তন বা পতনের সম্ভাবনা যতটা বেশি, ততটাই বেশি বিশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি। সামরিকভাবে ইরান বহুদিনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল, তবু ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ধারাবাহিকতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। আর হামলায় পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা কম, গোপনে পুনর্গঠনের ঝুঁকি আছে।
চতুর্থবারে কি সাফল্য
ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির ও অনিশ্চিত করেছে। তবু এই মুহূর্তে তিনি ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি দীর্ঘদিনের লক্ষ্য এগিয়ে নিতে পারেন—ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধীরে ধীরে পতনকে ত্বরান্বিত করা, সবচেয়ে সহিংস ও অস্থিতিশীল পরিণতি এড়ানো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো এবং ইসরায়েল-ইরানের সরাসরি সংঘাতের চক্র থামানো।

প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত সংযম। বিক্ষোভ দমনের জবাবে ইরানে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করা উচিত নয়। এখন এমন হামলা শাসন উত্খাতের চেয়ে দেশে কড়া সমালোচকদের শান্ত করতেই বেশি কাজে লাগবে। হামলার প্রভাব কী হবে—বিরোধী ও সমর্থকদের মানসিকতায়—তা কেউ জানে না। এটি বিক্ষোভকে উসকে দিতে পারে এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে ভাঙন ধরাতে পারে; আবার অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতার চক্রও তৈরি করতে পারে। আহত ও কোণঠাসা শাসনের বিরুদ্ধে অনির্ণায়ক ফলাফল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি করতে পারে।
তবে সংযম মানে বিচ্ছিন্নতা নয়। শাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে এবং পতন ত্বরান্বিত করতে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার সিদ্ধান্ত—আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীর কাতারে—ওয়াশিংটনের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। বিক্ষোভে নৃশংস দমন ধীরে সংস্কারের সম্ভাবনাকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে। এক দশক আগে যে পথ খোলা ছিল, এখন তা সংকুচিত। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসা, বছরের পর বছর উত্তেজনা এবং জনগণ হত্যার সিদ্ধান্তের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র কার্যত একঘরে।
সংযম ও চাপের কৌশল গত বছরের তাৎক্ষণিকতার চেয়ে অনেক বেশি বিচক্ষণ।
তবুও সীমিত কূটনীতির সুযোগ থাকলে ট্রাম্প তা কাজে লাগাতে পারেন—আরও হামলা না করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ফেরত আসার অনুমতি আদায় করে অন্তত ন্যূনতম স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা।

ইরানি বিরোধীদের সহায়তাও হতে হবে সতর্ক ও ধৈর্যশীল। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক সরকার, যা পররাষ্ট্রনীতি বদলায় এবং নিজ জনগণের অধিকার সম্মান করে। তাই খামেনি-পরবর্তী সময়ে ভাঙন ও সংস্কারের সুযোগ রেখে ঐক্য গড়তে উৎসাহ দিতে হবে—দেশের ভেতর ও প্রবাসে—কোনো একক গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা না দিয়ে।
একই সঙ্গে অঞ্চলে স্থিতিশীলতার ভূমিকা নিতে হবে। ইসরায়েলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুকে সংযত করা, হামলার সমর্থন নেই—এ কথা স্পষ্ট করা, আর দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করা জরুরি। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে তেহরানের নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ চ্যানেল গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভুল হিসাব এড়ানো যায়—যেমন গত ডিসেম্বরের ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া থেকে প্রায় সৃষ্ট সংকট।
সংযম ও চাপের কৌশল—গত বছরের তাৎক্ষণিকতার চেয়ে—গণহিংসার ঝুঁকি কমায় এবং তেহরানে নিয়ন্ত্রিত নেতৃত্ব পরিবর্তনের সেরা সুযোগ দেয়। এমন পরিবর্তন ঘটাতে পারলে ট্রাম্প হয়তো শেষ পর্যন্ত নিজের দেওয়া ‘শীর্ষ শান্তিস্রষ্টা’ উপাধির যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন।
ইলান গোল্ডেনবার্গ ও নেট সুয়ানসন 



















