বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন আর পরিবার, ব্যক্তি কিংবা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকেন্দ্রিক পুরোনো ও জীর্ণ রাজনীতিকে সমর্থন করে না। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে প্রকৃত অর্থে জনগণই হবে ক্ষমতার মালিক।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জনগণের সরকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের দাবি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলান্ধ রাজনীতির প্রতি মানুষের অনীহা দিন দিন বাড়ছে। তার পরিবর্তে জনগণ এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। তাঁর মতে, সত্য ও ন্যায়ের ওপর দাঁড়ানো শাসনব্যবস্থাই এখন মানুষের প্রধান চাওয়া।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে, মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে এবং দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপিদের আড়াল দিয়েছে।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভোটাররা ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—তারা এমন প্রার্থীকে সমর্থন দেবে, যারা পরীক্ষিত, পরিচিত ও প্রমাণিত এবং যারা ন্যায়, সত্য ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেয়।
তিনি দাবি করেন, এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া শুধু ময়মনসিংহেই নয়, সারা দেশেই বইছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সুযোগসন্ধানী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছে।
তরুণদের প্রত্যাশা ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণরা ধোঁকাবাজি কিংবা মুনাফাভিত্তিক রাজনীতি চায় না। তারা কার্ডনির্ভর বা বেকার ভাতাভিত্তিক রাজনীতিতেও আগ্রহী নয়। তরুণ সমাজ চায় একটি নতুন বাংলাদেশ, যা ২০২৪ সালের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশ কি আবারও গত ৭৭ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়? তাঁর মতে, সব বয়সের মানুষই এখন পরিবর্তনের পক্ষে।

অর্থপাচার ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় চার গুণ। তিনি বলেন, এই অর্থ উদ্ধারে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়স্বজন বা ঘনিষ্ঠজনকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে বিলাসী জীবন যাপন করছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব ও প্রার্থী পরিচিতি
এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুল। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ১১টি এবং নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















