ইউএনবি
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং এর সঙ্গে কোনো তাৎক্ষণিক বিদেশ সফরের পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে পাসপোর্ট জমা দিয়েছি। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আপনারা জানেন, আমার শারীরিক অবস্থা খুব ভালো নয়। একেবারে জরুরি না হলে আমি কোনো বৈঠকেও অংশ নিই না।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. সালেহউদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণেই একান্ত প্রয়োজন না হলে তাঁর বিদেশ যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
অন্য উপদেষ্টারাও কি তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে তা করেছেন এবং এটি বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই জমা দিয়েছেন। কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিতেই হয়, এটি একটি নিয়ম।
ড. সালেহউদ্দিন জানান, এখন থেকে উপদেষ্টারা সাধারণ নাগরিকদের মতো সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, আমরা নতুন পাসপোর্ট নেব এবং আপনাদের মতো সাধারণ পাসপোর্ট নিয়েই চলাফেরা করব।

এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভিসা আবেদন সহজ করার লক্ষ্যে কিছু উপদেষ্টা তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা পেতে কোনো সমস্যা হয় কি না—এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তাঁর ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়া কখনোই সমস্যা ছিল না।
তিনি বলেন, ভিসা চাইলে নিজ উদ্যোগেই আবেদন করতে হয়। আগে অনেক ঘোরাঘুরি করে তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পাওয়া যাবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। ভিসা নিয়ে আমার কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি আরও জানান, আগে তিনি সরকারি সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করেছেন।
উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়াকে সরকারি পদধারীদের ভ্রমণসংক্রান্ত সুবিধা মানসম্মত করা এবং বিদ্যমান বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন—এমন খবর সঠিক নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে দ্রুত ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে তাঁর কয়েকজন সহকর্মী সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমি বা আমার স্ত্রী কেউই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিইনি। আমার পাসপোর্ট আমার কাছেই আছে। দায়িত্বকাল চলাকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা কোনো মন্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন—এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
তবে তিনি নিশ্চিত করেন, কিছু উপদেষ্টা নতুন পাসপোর্ট নিয়েছেন, কারণ কিছু ক্ষেত্রে এতে ভিসা পাওয়া সহজ হয়। তবে কারা নতুন পাসপোর্ট নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি।
Sarakhon Report 



















