বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পরিচিতি ও মর্যাদা তুলে ধরার অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বৈশ্বিক উত্তরাধিকার সম্মানে ভূষিত হলেন দেশের খ্যাতিমান বিশ্বভ্রমণকারী নাজমুন নাহার। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিরলস কাজ করার জন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোক্খো তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেয়।
বিশ্বভ্রমণে বাংলাদেশের পতাকা
নাজমুন নাহার ইতোমধ্যে বিশ্বের একশ চুরাশি দেশের সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। প্রতিটি যাত্রায় তিনি সঙ্গে রেখেছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ব্যক্তিগত ভ্রমণকে তিনি পরিণত করেছেন দেশের পরিচয় বহনের এক নিরন্তর মিশনে। তাঁর এই যাত্রা শুধু ঘোরাঘুরি নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান ও পরিচিতি প্রতিষ্ঠার এক সাহসী প্রচেষ্টা।

শান্তি ও পরিবেশের পক্ষে অবস্থান
ভ্রমণের পাশাপাশি নাজমুন নাহার পরিবেশ সংরক্ষণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিশ্বশান্তির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখে চলেছেন। যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই—এই আহ্বানকে তিনি নিজের জীবনের মূল দর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় এই বার্তাই তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন মানুষের মধ্যে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান
সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নাজমুন নাহারের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ডলি হাফিজ ও আলোক্খোর সভাপতি ফারজানা সিলভিয়া। অনুষ্ঠানে এগ্রো টেকের পরিচালক শেলী সেনগুপ্তা তাঁকে সম্মানসূচক উত্তরীয় পরিয়ে দেন। বক্তারা বলেন, নাজমুনের এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মাইলফলক।

দীর্ঘ পথ চলার গল্প
দুই হাজার সালে ভারত আন্তর্জাতিক অ্যাডভেঞ্চার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের সূচনা। অধিকাংশ যাত্রাই তিনি সড়ক পথে সম্পন্ন করেছেন। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা এই অভিযাত্রী ইতোমধ্যে দেশে ও বিদেশে প্রায় ষাটটি সম্মাননা পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক শান্তি মশাল বাহক সম্মান তার অন্যতম উদাহরণ।
আনন্দঘন সমাপ্তি
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে বিভিন্ন শিল্পীর সংগীত পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। নাজমুন নাহারের সাফল্য ঘিরে উপস্থিত সবার কণ্ঠে ছিল বাংলাদেশের জন্য গর্ব আর আনন্দের প্রকাশ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















