সরকার তিনটি বড় যৌথ চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত সমতল শুল্কে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ক্রয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বছরের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন।
আশুগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র
বৈঠকে আশুগঞ্জ চারশ পঞ্চাশ মেগাওয়াট যৌথ চক্র দক্ষিণ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট শুল্কে কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে তেইশ হাজার আটশ আশি কোটি টাকার বেশি।
এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি অব বাংলাদেশ নির্মিত সিদ্ধিরগঞ্জ তিনশ পঁয়ত্রিশ মেগাওয়াট যৌথ চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে একুশ হাজার ছয়শ পঁচাত্তর কোটি টাকার বেশি।
একই সঙ্গে হরিপুর চারশ বারো মেগাওয়াট যৌথ চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার আরেকটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে উনিশ হাজার আটশ চৌষট্টি কোটি টাকার বেশি।
ব্যয় কমানো ও গ্রিডের স্থিতিশীলতা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনর্নির্ধারিত শুল্কে এসব বিদ্যুৎ কেনা হলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
অন্যান্য প্রস্তাবেও অনুমোদন
একই বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার, বান্দরবান ও ভাসানচরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রাক্প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ইউনিসেফকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুইশ তিন কোটি টাকার বেশি।
এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় নিরানব্বই কোটি টাকা।
বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের একটি সালিসি মামলায় সরকারের পক্ষে আইনি সেবা দিতে একটি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















