ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের পর এবার দেশটির বিশাল তেল সম্পদ নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর যে পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় পাঁচশ কোটি ডলার।
প্রথম ধাপে তেল বিক্রির অগ্রগতি
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রথম চালানের তেল বিক্রি করেছে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই বিক্রি শুধু শুরু, সামনে আরও একাধিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে আসা।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক জ্বালানি সমঝোতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—দুই দেশের জনগণের জন্যই লাভজনক হবে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ আসবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-11826006771-db2bd4e091fe460ea4b5caef074ba609.jpg)
তেল শিল্পে নিয়ন্ত্রণের বার্তা
এর আগে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসবে এবং ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ এই বিক্রির মাধ্যমে সেই ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ শুরু হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম বড় বিক্রি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক দেশ এটিকে সার্বভৌম সম্পদের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, এই উদ্যোগ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















