বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গঠনের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্যদের একটি। জাতিসংঘের অংশ হিসেবে উনিশশ আটচল্লিশ সালে সংস্থাটি যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ পথচলার পর চলতি বছরের বাইশ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দেশের নয়, গোটা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যই বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ার প্রভাব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাধ্যতামূলক অনুদান ও স্বেচ্ছা সহায়তা মিলিয়ে বিপুল অর্থ সংস্থাটির কার্যক্রম চালু রাখত ওয়াশিংটন। সেই অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংস্থার বাজেটে বড় কাটছাঁট শুরু হয়েছে। সংস্থার মহাপরিচালক বাজেট নতুন করে সাজাতে বাধ্য হয়েছেন এবং বড় দাতাদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিতে হচ্ছে।

মার্কিন বিজ্ঞানীদের জন্য সীমিত তথ্যপ্রবাহ
এই প্রত্যাহারের সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ওপর। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নতুন সংক্রামক রোগের নজরদারিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারে তাদের প্রবেশাধিকার কমে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন মহামারি বা জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি দুর্বল হতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের ওপরই পড়বে।
ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিনির্ধারণ সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি অন্য দেশগুলোর জন্য প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে দুর্বল করতে পারে।

ধীরে ধীরে ক্ষয়ের সতর্কতা
জনস হপকিন্স জনস্বাস্থ্য বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান জাড ওয়ালসন মনে করেন, এর প্রভাব হবে ধীর কিন্তু গভীর। তাঁর ভাষায়, হঠাৎ একদিন সকালে মানুষ টের পাবে না কী বদলে গেল, কিন্তু একবার ক্ষয় শুরু হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকও বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে কেউই লাভবান হবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















