ইরানে রক্তক্ষয়ী দমন–পীড়নের মধ্যে যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদের বড় অংশের অনুভূতি এখন একটাই—বিশ্বাসভঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য আশ্বাসে ভর করে আন্দোলনে জোর এসেছিল। কিন্তু সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ না নেওয়ায় ক্ষোভ, হতাশা আর ক্ষত নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছে অনেককে।
প্রতিশ্রুতির ভরসায় বাড়ে আন্দোলন
গত বছরের শেষ দিকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মুদ্রার আকস্মিক অবমূল্যায়নে জনজীবনে নেমে আসে চরম সংকট। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে। এই কথাকে অনেকেই বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন। জনসমাগম বাড়ে, রাস্তায় নামে লাখো মানুষ।

রক্তাক্ত জানুয়ারি
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আট ও নয় জানুয়ারি রাজধানীসহ বহু এলাকায় গুলি চলে। উত্তরাঞ্চলের এক শহরের বাসিন্দা জানান, অন্ধকারে রাস্তা আটকে দিয়ে মেশিনগান থেকে গুলি ছোড়া হয়। মানুষ দিকবিদিক ছুটে পড়ে, অনেকেই আর ফেরেননি। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে পরিবারে পরিবারে।
সহায়তা আসেনি, বদলে যায় ভাষা
বিক্ষোভকারীদের চোখে সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত আসে এরপর। সামরিক প্রস্তুতির আভাস মিললেও অল্প সময়ের মধ্যে সেই অবস্থান শিথিল হয়। ট্রাম্পের বক্তব্যেও আসে পরিবর্তন। তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার প্রতিশ্রুতিকে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। রাস্তায় থাকা মানুষের কাছে এটি ছিল হঠাৎ পিছু হটা।
![]()
তেহরানের ক্ষুব্ধ কণ্ঠ
তেহরানের এক ব্যবসায়ী বলেন, সহায়তার বার্তা দেখে তিনি আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে সুখবর দিয়েছিলেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব বদলে যায়। এক শিল্পশিক্ষকের ভাষায়, বাইরে নয়, ভেতরেও এই হলুদ ভাবটাই আসল সমস্যা। সাধারণ মানুষের কথায়, তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছে, পরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রের কঠোর বার্তা
সরকারি কণ্ঠস্বর আরও কঠিন হয়। প্রসিকিউটর ঘোষণা দেন, রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত ও কঠোর। বহু মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাস্তবে শহরের রাস্তায় বাড়ে তল্লাশি। মোবাইল ফোন পরীক্ষা, চেকপোস্ট, ভয় আর অনিশ্চয়তা নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে।

ভাঙা আশা, তবু অপেক্ষা
এক নারী বলেন, কার্যত সামরিক শাসনের মধ্যে তাঁরা বাস করছেন। প্রতিশ্রুতি ভাঙার পর কর্তৃপক্ষ আরও বেপরোয়া। তাঁর আশা শেষ হয়ে গেছে। তবে কেউ কেউ এখনো মনে করেন, এটি বিভ্রান্ত করার কৌশল হতে পারে। আঘাত না এলে পরিবর্তন আসবে কীভাবে—এই প্রশ্নও শোনা যায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















