দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পরপরই ওয়াশিংটনের বাইরে এক বাড়ির ডাইনিং রুমে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন তথ্য বিশেষজ্ঞ। সাবেক বাইডেন প্রশাসনের প্রধান মার্কিন তথ্য বিজ্ঞানী ডেনিস রস জানতেন, সরকারের হাতে থাকা তথ্যভান্ডার কতটা বিশাল এবং তা জনস্বার্থে কতটা জরুরি। সেই সন্ধ্যায় দেয়ালের ছবি নামিয়ে তারা কাগজে কাগজে লিখতে শুরু করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ বন্ধ হলে কী কী বিপর্যয় ঘটতে পারে। দুই হাজার সতেরো সালে এমন অভিজ্ঞতা তারা দেখেছিলেন। এবার আশঙ্কা ছিল আরও দ্রুত ও গভীর আঘাতের।
কাগজের ছোট নোটে ভরে যায় ঘর। কোন কোন তথ্য ঝুঁকিতে, কীভাবে সেগুলো নজরদারি ও সুরক্ষিত রাখা যায়—সবই উঠে আসে। এক বছর পেরোতেই রস বলছেন, তার আশঙ্কার প্রায় সবই সত্যি হয়েছে, শুধু গতি ছিল কল্পনার চেয়েও বেশি।

প্রথম ধাক্কা আসে ট্রাম্পের অভিষেকের পরদিনই। বাইডেন আমলে চালু হওয়া জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার যাচাই সরঞ্জাম হঠাৎই অনলাইনের বাইরে চলে যায়। তবে বেশিদিন নয়। আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই তা ফিরিয়ে আনে পরিবেশগত তথ্য রক্ষার নতুন জোট। দুই হাজার চব্বিশের নভেম্বরেই গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ফেডারেল তথ্য বাঁচাতে এগিয়ে আসে।
নারী নেতৃত্বে তথ্য রক্ষার জোট
এক বছরের বেশি সময় ধরে ডজনখানেকেরও বেশি সংগঠন একসঙ্গে কাজ করছে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন মূলত নারীরাই। আড়ালে রয়েছেন আরও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী ও প্রতিষ্ঠান, যারা আলোচনার বাইরে থেকেই কাজ করছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনের পর বিভিন্ন খাতের বহু সংগঠন মিলিয়ে যে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, তার লক্ষ্য একটাই—ফেডারেল ডেটাবেসগুলোকে জীবিত রাখা।

এ পর্যন্ত অন্তত তিন শত ষাটটি পরিবেশভিত্তিক ডেটাসেট, ডেটা ডট গভ থেকে তিন লক্ষ এগারো হাজারের বেশি তথ্যভান্ডার এবং স্মিথসোনিয়ান প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাতশ দশ টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। তালিকা আরও দীর্ঘ।
তথ্য শুধু সংরক্ষণ নয়, ব্যবহারের প্রশ্ন
এই লড়াই শুধু তথ্য জমিয়ে রাখার নয়। অতীতের তথ্য সমাজ ও পৃথিবীর একটি সময়ের ছবি দেয়, যা প্রবণতা বিশ্লেষণে অপরিহার্য। কিন্তু করদাতাদের অর্থে সংগৃহীত এই তথ্য যদি সবার জন্য উন্মুক্ত না থাকে, তবে তা তার আসল উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না। প্রশ্ন উঠে আসে, সার্ভারে পড়ে থাকা তথ্য মানুষ কীভাবে ব্যবহার করবে।
এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার গ্রিনহাউস গ্যাস প্রতিবেদন কর্মসূচি এবং জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের ব্যয়বহুল আবহাওয়া ও জলবায়ু দুর্যোগ সূচকের মতো উদ্যোগ আবার চালু করা হয়। প্রশাসনের দাবি, কিছু তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে কাঠামোগত পরিবর্তন বা বৈচিত্র্য উদ্যোগ বন্ধের কারণে। তবে তথ্য রক্ষাকারীরা এটিকে দেখছেন ভিন্ন চোখে।

সহযোগিতাই ছিল একমাত্র পথ
এই সংকটে প্রতিযোগিতার জায়গা ছিল না। তথ্য উদ্ধার প্রকল্পের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিন্ডা কেলাম বলছেন, সবাই যে যার মতো দৌড়াচ্ছিল। পরিবেশ নীতি উদ্ভাবন কেন্দ্রের প্রযুক্তি পরিচালক জেসি মার জানান, অনেক সরকারি কর্মী বলেছিলেন তারা সংস্থার ভেতরে শেষ ব্যক্তি, যাদের হাতে ওই তথ্য আছে। অনুরোধ ছিল একটাই, দয়া করে ব্যাকআপ নিন।
একটি তালিকা ধরে অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছিল। এরপর সবাই একে একে কাজ শেষ করেছেন। নীরব, কিন্তু দৃঢ় এই প্রচেষ্টাই আজ আমেরিকার জলবায়ু তথ্যের শেষ ভরসা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















