বিশ্ব পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম বদলে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ করার নির্দেশ দেওয়ার পর এর আর্থিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এক হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের খরচ গিয়ে ঠেকতে পারে শতাধিক মিলিয়ন ডলারে।
নাম পরিবর্তনের পেছনের যুক্তি
নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামটি বেশি উপযুক্ত। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ও মন্তব্য করেন, তাদের লক্ষ্য কেবল প্রতিরক্ষা নয়, আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানো। সর্বোচ্চ ধ্বংস ক্ষমতা নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার। এই বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত শান্তি ও কূটনীতির বদলে সামরিক অবস্থান জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

খরচ কতটা বাড়তে পারে
কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমিত পরিসরে নাম পরিবর্তন কার্যকর করলে প্রাথমিকভাবে প্রায় এক কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে পুরো দপ্তরে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হলে খরচ বেড়ে প্রায় বারো কোটি পঞ্চাশ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইট, নথিপত্র, চিঠিপত্র হালনাগাদে কর্মীদের সময় ব্যয়, নতুন সাইনবোর্ড ও আনুষ্ঠানিক প্রতীক পরিবর্তনের খরচ।
অনিশ্চয়তার কারণ
এই হিসাবকে পুরোপুরি নির্ভুল বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাজেট অফিস। কারণ প্রতিরক্ষা দপ্তর কিভাবে ও কত দ্রুত এই নাম পরিবর্তন বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো জানানো হয়নি। এর আগে দপ্তরের কয়েকটি শাখায় নাম পরিবর্তনে প্রায় উনিশ লাখ ডলার খরচ হয়েছে বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেটিকেও অসম্পূর্ণ ও কম হিসাব বলে মনে করছে সংস্থাটি।

কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষা
পুরো মাত্রায় নাম পরিবর্তন কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামটি কেবল গৌণ বা বিকল্প শিরোনাম হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। নির্বাহী আদেশ জারির কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কংগ্রেস এখনো বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি আর্থিক চাপের প্রশ্ন ও ঝুলে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















