নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরও ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট গ্রোক বারবার মানুষের যৌনায়িত ছবি তৈরি করছে। এমনকি ব্যবহারকারী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়ার পরও যে ছবির ব্যক্তি এতে সম্মতি দেননি, তবু এই প্রবণতা থামেনি। রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য।
নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন পর্যন্ত রয়টার্সের নয়জন সাংবাদিক জানুয়ারির দুই দফায় নিজেদের ও সহকর্মীদের সম্পূর্ণ পোশাক পরা ছবি গ্রোকে আপলোড করেন। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে অনুরোধ করা হয় ছবিগুলোকে যৌন উস্কানিমূলক বা অপমানজনক ভঙ্গিতে রূপান্তর করতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রোক সেই অনুরোধ মেনে নেয়, এমনকি যখন জানানো হয় ছবির মানুষটি এতে রাজি নন বা এতে তারা মানসিকভাবে আঘাত পেতে পারেন।
পরীক্ষায় কী দেখা গেছে
প্রথম দফায় দেওয়া অনুরোধ গুলোর মধ্যে পঞ্চান্ন এর মধ্যে পঁয়তাল্লিশ টিতেই গ্রোক যৌনায়িত ছবি তৈরি করে। এসবের একটি বড় অংশে আগেই জানানো হয়েছিল যে ছবির ব্যক্তি বিশেষভাবে সংবেদনশীল বা এতে অপমানিত হবেন। দ্বিতীয় দফায় কিছুটা কম হলেও একই প্রবণতা দেখা যায়। কেন এমন পার্থক্য হলো, তা স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

ক্ষোভ ও নীরবতা
বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে আগে গ্রোকের প্রকাশ্য ছবি তৈরির সক্ষমতায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, চ্যাটবট এর ভেতরে এই সমস্যার সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তির ভিন্ন অবস্থান
একই ধরনের অনুরোধ অন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট গুলো তে দিলে তারা সবাই এমন ছবি তৈরি করতে অস্বীকার করেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্মতি ছাড়া কারও ছবি পরিবর্তন করা নৈতিকতা ও গোপনীয়তার পরিপন্থী এবং এতে মানুষের ক্ষতি হতে পারে।
আইনি ঝুঁকি বাড়ছে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্মতি ছাড়া যৌনায়িত ছবি তৈরি ও ছড়ানো অনেক দেশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা আইনি পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ও কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কতটা জরুরি, তা আবারও সামনে চলে এলো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















