১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শীতের দিনে পুষ্টির উষ্ণতা: ঘরেই তৈরি চিকেন টরটেলিনি স্যুপ স্বাদ ও সুস্থতার মিলন গ্রামীণ থাইল্যান্ডে ভোটের হিসাব বদলাচ্ছে, দল নয় প্রাধান্য পাচ্ছেন প্রার্থী সম্মতি অমান্য করেও যৌনায়িত ছবি তৈরি করছে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিদেশি যুদ্ধবন্দিদের অনিশ্চিত জীবন ইউক্রেনের কারাগারে আটকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম বদল: কোটি কোটি ডলারের চাপ বাড়তে পারে করদাতাদের ওপর মার্কিন চোখে গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, ট্রাম্প আসলে কী চান ট্রাম্পের আশ্বাসে রাস্তায়, শেষে বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষোভে জর্জরিত ইরান মার্কিন প্রত্যাহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংকটে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ধীর ক্ষয়ের শঙ্কা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সংলাপ শুক্রবার, আলোচনায় আশার বার্তার সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম বড় চুক্তি, মূল্য পাঁচশ কোটি ডলার

গ্রামীণ থাইল্যান্ডে ভোটের হিসাব বদলাচ্ছে, দল নয় প্রাধান্য পাচ্ছেন প্রার্থী

People attend an election campaign rally by Nuchanat Jaruwongsethian, a parliamentary candidate for the Kla Tham Party, in Rasi Salai district, Si Sa Ket province, Thailand, January 22, 2026. REUTERS/Athit Perawongmetha

থাইল্যান্ডের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে নির্বাচনের রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ফেউ থাই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, সেখানে এখন দলীয় আনুগত্য ভেঙে ভোটাররা ঝুঁকছেন ব্যক্তিগত পরিচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের দিকে। আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন দেশটির রাজনীতিতে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে ফেউ থাইয়ের জনভিত্তিক রাজনীতিকে।

উবন রাতচাথানি ও আশপাশের কৃষিপ্রধান এলাকায় একসময় ভোটের সিদ্ধান্ত ছিল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এখন চাষিরা নিজেদের মধ্যে বসে নতুন করে হিসাব কষছেন। জানুয়ারিতে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ওই অঞ্চলে ফেউ থাইয়ের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে প্রায় ত্রিশ শতাংশে। সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি সামান্য এগিয়ে, আর ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই রয়েছে কাছাকাছি অবস্থানে।

দলীয় প্রভাব দুর্বল হচ্ছে কেন
দুই হাজার তেইশ সালের নির্বাচনে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের বিশটি প্রদেশে অধিকাংশ আসন জিতেছিল ফেউ থাই। তবে এরপর সীমান্ত সংকট সামাল দিতে ব্যর্থতা, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘাত এবং প্রতিশ্রুত নগদ সহায়তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা গ্রামীণ ভোটারদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবাস ও জাতীয়তাবাদী আবহও দলটির জন্য চাপ বাড়িয়েছে।

চাষিদের চোখে প্রার্থীই মুখ্য
রাবার ও ধানচাষিদের অনেকেই বলছেন, এখন তারা দল নয়, মানুষ দেখেই ভোট দেবেন। কেউ কেউ এমন প্রার্থীকে সমর্থন করছেন, যিনি আগে ফেউ থাইয়ে ছিলেন কিন্তু পরে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাদের যুক্তি স্পষ্ট—যিনি এলাকায় থাকেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান, তিনিই ভরসার জায়গা। ফসলের দাম কমা, উৎপাদন খরচ বাড়া আর ঋণের বোঝা চাষিদের এমন বাস্তব সিদ্ধান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

ভাঙন ও দলবদলের রাজনীতি
এই মনোভাব বদলের সুযোগ কাজে লাগাতে বড় দলগুলো স্থানীয় পরিচিত মুখ টানতে ব্যস্ত। দুই হাজার তেইশ সালের নির্বাচনে জয়ী অন্তত একানব্বই জন আইনপ্রণেতা ইতোমধ্যে দল বদলেছেন। তাদের বড় অংশই যোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন শিবিরে বা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র দলে। ফেউ থাইয়ে নতুন করে যোগ দেওয়া প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা।

ফেউ থাইয়ের শেষ চেষ্টা
তবে সব ভোটার যে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা নয়। কিছু এলাকায় পুরোনো সম্পর্ক আর স্থানীয় প্রার্থীর উপস্থিতি এখনো দলটির পক্ষে কাজ করছে। ফেউ থাই নেতারা বলছেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ সমর্থন আবার শক্ত হবে। তাদের দাবি, নীতির মাধ্যমে কৃষক যেন অন্তত ত্রিশ শতাংশ লাভ পান, সেটাই লক্ষ্য।

পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির বাস্তবতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন নতুন নয়। রাষ্ট্রীয় সেবা ও কল্যাণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে ব্যক্তিগত সহায়তা আর সম্পর্কই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পুঁজি। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক এখনো নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখছে।

থাইল্যান্ডের গ্রামীণ রাজনীতিতে তাই এক নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট। আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও প্রত্যাশাই ভোটের বাক্সে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের দিনে পুষ্টির উষ্ণতা: ঘরেই তৈরি চিকেন টরটেলিনি স্যুপ স্বাদ ও সুস্থতার মিলন

গ্রামীণ থাইল্যান্ডে ভোটের হিসাব বদলাচ্ছে, দল নয় প্রাধান্য পাচ্ছেন প্রার্থী

১০:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

থাইল্যান্ডের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে নির্বাচনের রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ফেউ থাই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, সেখানে এখন দলীয় আনুগত্য ভেঙে ভোটাররা ঝুঁকছেন ব্যক্তিগত পরিচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের দিকে। আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন দেশটির রাজনীতিতে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে ফেউ থাইয়ের জনভিত্তিক রাজনীতিকে।

উবন রাতচাথানি ও আশপাশের কৃষিপ্রধান এলাকায় একসময় ভোটের সিদ্ধান্ত ছিল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এখন চাষিরা নিজেদের মধ্যে বসে নতুন করে হিসাব কষছেন। জানুয়ারিতে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ওই অঞ্চলে ফেউ থাইয়ের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে প্রায় ত্রিশ শতাংশে। সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি সামান্য এগিয়ে, আর ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই রয়েছে কাছাকাছি অবস্থানে।

দলীয় প্রভাব দুর্বল হচ্ছে কেন
দুই হাজার তেইশ সালের নির্বাচনে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের বিশটি প্রদেশে অধিকাংশ আসন জিতেছিল ফেউ থাই। তবে এরপর সীমান্ত সংকট সামাল দিতে ব্যর্থতা, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘাত এবং প্রতিশ্রুত নগদ সহায়তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা গ্রামীণ ভোটারদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবাস ও জাতীয়তাবাদী আবহও দলটির জন্য চাপ বাড়িয়েছে।

চাষিদের চোখে প্রার্থীই মুখ্য
রাবার ও ধানচাষিদের অনেকেই বলছেন, এখন তারা দল নয়, মানুষ দেখেই ভোট দেবেন। কেউ কেউ এমন প্রার্থীকে সমর্থন করছেন, যিনি আগে ফেউ থাইয়ে ছিলেন কিন্তু পরে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাদের যুক্তি স্পষ্ট—যিনি এলাকায় থাকেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান, তিনিই ভরসার জায়গা। ফসলের দাম কমা, উৎপাদন খরচ বাড়া আর ঋণের বোঝা চাষিদের এমন বাস্তব সিদ্ধান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

ভাঙন ও দলবদলের রাজনীতি
এই মনোভাব বদলের সুযোগ কাজে লাগাতে বড় দলগুলো স্থানীয় পরিচিত মুখ টানতে ব্যস্ত। দুই হাজার তেইশ সালের নির্বাচনে জয়ী অন্তত একানব্বই জন আইনপ্রণেতা ইতোমধ্যে দল বদলেছেন। তাদের বড় অংশই যোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন শিবিরে বা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র দলে। ফেউ থাইয়ে নতুন করে যোগ দেওয়া প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা।

ফেউ থাইয়ের শেষ চেষ্টা
তবে সব ভোটার যে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা নয়। কিছু এলাকায় পুরোনো সম্পর্ক আর স্থানীয় প্রার্থীর উপস্থিতি এখনো দলটির পক্ষে কাজ করছে। ফেউ থাই নেতারা বলছেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ সমর্থন আবার শক্ত হবে। তাদের দাবি, নীতির মাধ্যমে কৃষক যেন অন্তত ত্রিশ শতাংশ লাভ পান, সেটাই লক্ষ্য।

পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির বাস্তবতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন নতুন নয়। রাষ্ট্রীয় সেবা ও কল্যাণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে ব্যক্তিগত সহায়তা আর সম্পর্কই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পুঁজি। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক এখনো নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখছে।

থাইল্যান্ডের গ্রামীণ রাজনীতিতে তাই এক নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট। আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও প্রত্যাশাই ভোটের বাক্সে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।