বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে বরফে ঢাকা বিশাল এক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে এই অঞ্চলের নাম। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও স্পষ্ট ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুরোনো আগ্রহ, নতুন চাপ
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দেন তাঁর প্রথম মেয়াদে। তখন তিনি একে প্রায় সম্পত্তি কেনাবেচার মতো করেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। পুনর্নির্বাচনের পর সেই আগ্রহ আরও জোরালো হয়েছে। শুধু কেনার প্রস্তাব নয়, দ্বীপটি দখলে নেওয়ার হুমকিও এসেছে, যা গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় নেতৃত্ব, ডেনমার্ক সরকার এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আপত্তির মুখে পড়েছে। এমনকি তাঁর নিজের দলের মধ্যেও এই অবস্থান নিয়ে অস্বস্তি দেখা গেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানই বড় শক্তি
মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে অনেক সময় অতিরিক্ত বড় মনে হলেও বাস্তব গুরুত্ব তার চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে দ্বীপটি রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা নজরে রাখার জন্য একেবারে আদর্শ স্থানে অবস্থিত। আর্কটিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী ফাঁক দিয়ে গঠিত। এই করিডোর নিয়ন্ত্রণে থাকলে উত্তরের সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।
বরফের নিচে লুকানো সম্পদের টান
গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। তেল, ইউরেনিয়াম এবং বিশেষ ধরনের খনিজ এই দ্বীপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এসব খনিজ আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই এসব খনিজের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় চীন এই নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে শুল্ক ছাড় আদায় করেছে বলেও বিশ্লেষকদের দাবি।
:quality(75)/https://cdn-dam.kompas.id/images/2026/01/05/12ba6b8725a43e2fbd01f4f1f9f4ba3f-cropped_image.jpg)
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
গ্রিনল্যান্ডের প্রায় পুরো অংশ বরফে ঢাকা। রাস্তা, বন্দর ও অবকাঠামোর অভাব থাকায় খনিজ উত্তোলন সহজ নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে শুরু করেছে। এর ফলে নতুন খনিজ অনুসন্ধান, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। এই পরিবর্তন আর্কটিক অঞ্চলকে ক্রমেই প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত করছে, যেখানে রাশিয়ার আধিপত্য ইতিমধ্যেই বড় বাস্তবতা।
জাতীয় নিরাপত্তা নাকি সম্পদের হিসাব
ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর আগ্রহের মূল কারণ জাতীয় নিরাপত্তা। তবে তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্যে প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভাবনায় এই দ্বীপ এখন শুধু ভৌগোলিক নয়, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















