গত গ্রীষ্মের এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্স শহরের কিশোর ল্যান্স জনসন ঘুম ভেঙে ওঠে তীব্র পেটব্যথায়। ডান দিকের নিচে যন্ত্রণা এতটাই বাড়ছিল যে আগের রাতে খাওয়া পিজ্জা আর আইসক্রিমকেই প্রথমে দোষ দেন তিনি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ব্যথা কমেনি। শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখলেন নতুন যুগের এক উপদেষ্টার ওপর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার।
নিজের খাওয়া-দাওয়া আর ব্যথার অবস্থান বিস্তারিতভাবে জানানোর পর সেখান থেকে জানানো হয়, লক্ষণগুলো অ্যাপেন্ডিক্স এর প্রদাহ এর সঙ্গে মিলছে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সন্দেহ দূর করতে তিনি একের পর এক প্রশ্ন করেন। প্রতিবারই একই পরামর্শ আসে—দেরি না করে পরীক্ষা করানো দরকার। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা ও নিশ্চিত করেন, তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার না করলে ঝুঁকি ছিল।

এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন কিশোরের নয়। দেশজুড়ে অনেক মানুষ এখন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রাথমিক ধারণা পেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারস্থ হচ্ছেন। একসময় যেখানে ইন্টারনেটের সাধারণ অনুসন্ধান ছিল ভরসা, সেখানে এখন ধীরে ধীরে তার জায়গা নিচ্ছে আরও উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি।
স্বাস্থ্যতথ্যে নতুন প্রবণতা
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবায় যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত আলাদা সুবিধা। এতে মানুষ নিজের পরীক্ষার ফল, চিকিৎসা নথি আর রোগের ইতিহাস আপলোড করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা পেতে পারেন। এতে চিকিৎসা বোঝা সহজ হলেও ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, ভুল বা পুরোনো তথ্য পাওয়ার আশঙ্কা এবং অতিরিক্ত সাধারণীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকেরা কীভাবে ব্যবহার করতে বলছেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি সহায়ক হতে পারে। উপসর্গ বোঝার প্রাথমিক ধারণা নেওয়া, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার আগে প্রশ্নগুলো গুছিয়ে নেওয়া, পরীক্ষার রিপোর্টের সহজ ব্যাখ্যা জানা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিল শব্দের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে এটি কাজে আসে। পাশাপাশি একাধিক উৎস মিলিয়ে তথ্য যাচাই করার ওপরও জোর দিচ্ছেন তাঁরা।
সচেতন ব্যবহারে উপকার
চিকিৎসকেরা বলছেন, যেকোনো গুরুতর উপসর্গে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়াই নিরাপদ পথ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে পাওয়া তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। এটি হতে পারে সহায়ক নির্দেশনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সচেতন ব্যবহারই পারে প্রযুক্তিকে সত্যিকারের সহায়কে পরিণত করতে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















