০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ট্রাম্পের আশ্বাসে রাস্তায়, শেষে বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষোভে জর্জরিত ইরান মার্কিন প্রত্যাহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংকটে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ধীর ক্ষয়ের শঙ্কা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সংলাপ শুক্রবার, আলোচনায় আশার বার্তার সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম বড় চুক্তি, মূল্য পাঁচশ কোটি ডলার ডাক্তারের পরামর্শে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পাঁচ নিরাপদ পথ জলবায়ু তথ্য রক্ষার নীরব যুদ্ধে নারীরা, ট্রাম্প আমলে ফেডারেল ডেটা বাঁচানোর লড়াই আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধবহরের কাছে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত, উত্তেজনার মাঝেই সম্ভাব্য আলোচনার আভাস মাদকবিরোধী যুদ্ধের নামে বিদেশে সামরিক প্রদর্শন, ঘরে নীরব মৃত্যু মিছিল নওগাঁয় নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১০ এস আলমের মামলায় সরকারের কৌশল বদল, আন্তর্জাতিক সালিসিতে লড়তে ব্রিটিশ আইনফার্মে ভরসা

এস আলমের মামলায় সরকারের কৌশল বদল, আন্তর্জাতিক সালিসিতে লড়তে ব্রিটিশ আইনফার্মে ভরসা

সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে দায়ের করা এস আলম গ্রুপের মামলার মোকাবিলায় ব্রিটিশ একটি নামকরা আইনফার্ম নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই আইনি সেবার জন্য প্রতি ঘণ্টায় ব্যয় হবে দেড় লাখ টাকারও বেশি। জটিল ও বহুমাত্রিক এই মামলাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি বৈঠকে অনুমোদন
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনার পর ব্রিটিশ আইনফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি-কে নিয়োগে সম্মতি দেয় কমিটি। নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ঘণ্টায় এক হাজার দুই শত পঞ্চাশ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।

আইসিএসআইডিতে মামলা
বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই সালিসি মামলা বিশ্বব্যাংকের অধীন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র আইসিএসআইডিতে দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর এআরবি পঁচিশ তিপ্পান্ন। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এস আলম পরিবার লন্ডনে মামলা করেছে এবং সেই মামলাই আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে। তার ভাষায়, এটি বহু অর্থের বিষয় এবং আইনি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল।

অর্থ পাচারের অভিযোগ ও সরকারের অবস্থান
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলমের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আইসিএসআইডি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার যথাযথ জবাব দিতে হবে। সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক মানের আইনি লড়াই নিশ্চিত করতেই বিদেশি আইনফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।

সালিসি আবেদনের পটভূমি
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিসি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তদন্ত এবং গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থী।

নাগরিকত্ব ও বিনিয়োগ চুক্তির দাবি
এস আলম পরিবার দুই হাজার চার সালের বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই মামলা করেছে। নথি অনুযায়ী, তারা দুই হাজার বিশ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং দুই হাজার একুশ থেকে দুই হাজার তেইশ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে এবং নিজেদের সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উনিশশো আশির বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীনেও সুরক্ষার কথা বলছে তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের অভিযান
দুই হাজার চব্বিশ সালের পাঁচ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হয়। দুই হাজার চব্বিশ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে অর্থ পাচারের মোট পরিমাণ আনুমানিক দুই শত চৌত্রিশ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, শুধু এস আলম পরিবারই প্রায় বারো বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের আশ্বাসে রাস্তায়, শেষে বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষোভে জর্জরিত ইরান

এস আলমের মামলায় সরকারের কৌশল বদল, আন্তর্জাতিক সালিসিতে লড়তে ব্রিটিশ আইনফার্মে ভরসা

০৬:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে দায়ের করা এস আলম গ্রুপের মামলার মোকাবিলায় ব্রিটিশ একটি নামকরা আইনফার্ম নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই আইনি সেবার জন্য প্রতি ঘণ্টায় ব্যয় হবে দেড় লাখ টাকারও বেশি। জটিল ও বহুমাত্রিক এই মামলাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি বৈঠকে অনুমোদন
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনার পর ব্রিটিশ আইনফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি-কে নিয়োগে সম্মতি দেয় কমিটি। নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ঘণ্টায় এক হাজার দুই শত পঞ্চাশ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।

আইসিএসআইডিতে মামলা
বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই সালিসি মামলা বিশ্বব্যাংকের অধীন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র আইসিএসআইডিতে দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর এআরবি পঁচিশ তিপ্পান্ন। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এস আলম পরিবার লন্ডনে মামলা করেছে এবং সেই মামলাই আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে। তার ভাষায়, এটি বহু অর্থের বিষয় এবং আইনি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল।

অর্থ পাচারের অভিযোগ ও সরকারের অবস্থান
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলমের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আইসিএসআইডি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার যথাযথ জবাব দিতে হবে। সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক মানের আইনি লড়াই নিশ্চিত করতেই বিদেশি আইনফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।

সালিসি আবেদনের পটভূমি
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিসি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তদন্ত এবং গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থী।

নাগরিকত্ব ও বিনিয়োগ চুক্তির দাবি
এস আলম পরিবার দুই হাজার চার সালের বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এই মামলা করেছে। নথি অনুযায়ী, তারা দুই হাজার বিশ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং দুই হাজার একুশ থেকে দুই হাজার তেইশ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে এবং নিজেদের সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উনিশশো আশির বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীনেও সুরক্ষার কথা বলছে তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের অভিযান
দুই হাজার চব্বিশ সালের পাঁচ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হয়। দুই হাজার চব্বিশ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে অর্থ পাচারের মোট পরিমাণ আনুমানিক দুই শত চৌত্রিশ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, শুধু এস আলম পরিবারই প্রায় বারো বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।