০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৮১০ ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণে ঝরল দুই প্রাণ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে তরুণী ফেনীতে শিক্ষিকার বাসা থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, ২৪ ঘণ্টার বিশেষ পূর্বাভাস বরিশালের কারখানায় শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত কুষ্টিয়ায় মাঠে মিলল চা বিক্রেতার মরদেহ, হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে পুলিশ তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন, বছরের পর বছর দুর্ভোগে রংপুরের ৫০ হাজার মানুষ কুষ্টিয়া সীমান্তে আটজনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার আকাশপথে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, নিজস্ব বিমান সংস্থা চালুর ভাবনায় আদানি

শরণার্থী শিশুদের শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইউনিসেফের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে অবস্থানরত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিসেফের মাধ্যমে শিক্ষা সেবা সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুইশ তিন দশমিক আট সাত কোটি টাকা, যা সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অনুদান থেকে অর্থায়ন করা হবে।

ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠকে অনুমোদন

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের কাঠামো ও লক্ষ্য

এই শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে ‘আইএসও উপাদান এক: কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর এসডি চার প্যাকেজের আওতায়। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মাতৃভাষায় শিক্ষা দিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

কেন ইউনিসেফ

বিশ্বব্যাংকের অনুদান ও ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একক উৎস পদ্ধতিতে ইউনিসেফকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের শিক্ষা দল যৌথভাবে তা পর্যালোচনা ও দরকষাকষি করে। সব প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে কমিটি তা অনুমোদন দেয়।

অর্থায়ন ও সময়কাল

প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি আটচল্লিশ লাখ মার্কিন ডলার, যা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের বিনিময় হারে দুইশ তিন দশমিক আট সাত কোটি টাকার সমান। এ অর্থ সরাসরি মার্কিন ডলারে ইউনিসেফকে পরিশোধ করবে বিশ্বব্যাংক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি গত বছরের আটাশে মে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার চব্বিশ সালের এক জুলাই থেকে দুই হাজার সাতাশ সালের ত্রিশে জুন পর্যন্ত।

শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী সংখ্যা

এই উদ্যোগের আওতায় মোট দুই লাখ ছাপ্পান্ন হাজার চারশ নব্বই জন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী মাতৃভাষায় শিক্ষা সহায়তা পাবে। প্রথম বারো মাসে চার হাজার একশ ছয় জন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ছয় মাসে আরও তিন হাজার সাতশ জন শিক্ষক যুক্ত হবেন। প্রকল্প কাঠামো অনুযায়ী এসব শিক্ষকদের সম্মানী প্রদান করা হবে।

মেটা বিবরণ
রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা চালু করতে ইউনিসেফের সঙ্গে দুইশ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিল সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৮১০

শরণার্থী শিশুদের শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইউনিসেফের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন

০৫:১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে অবস্থানরত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিসেফের মাধ্যমে শিক্ষা সেবা সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুইশ তিন দশমিক আট সাত কোটি টাকা, যা সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অনুদান থেকে অর্থায়ন করা হবে।

ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠকে অনুমোদন

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের কাঠামো ও লক্ষ্য

এই শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে ‘আইএসও উপাদান এক: কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর এসডি চার প্যাকেজের আওতায়। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মাতৃভাষায় শিক্ষা দিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

কেন ইউনিসেফ

বিশ্বব্যাংকের অনুদান ও ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একক উৎস পদ্ধতিতে ইউনিসেফকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের শিক্ষা দল যৌথভাবে তা পর্যালোচনা ও দরকষাকষি করে। সব প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে কমিটি তা অনুমোদন দেয়।

অর্থায়ন ও সময়কাল

প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি আটচল্লিশ লাখ মার্কিন ডলার, যা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের বিনিময় হারে দুইশ তিন দশমিক আট সাত কোটি টাকার সমান। এ অর্থ সরাসরি মার্কিন ডলারে ইউনিসেফকে পরিশোধ করবে বিশ্বব্যাংক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি গত বছরের আটাশে মে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার চব্বিশ সালের এক জুলাই থেকে দুই হাজার সাতাশ সালের ত্রিশে জুন পর্যন্ত।

শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী সংখ্যা

এই উদ্যোগের আওতায় মোট দুই লাখ ছাপ্পান্ন হাজার চারশ নব্বই জন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী মাতৃভাষায় শিক্ষা সহায়তা পাবে। প্রথম বারো মাসে চার হাজার একশ ছয় জন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ছয় মাসে আরও তিন হাজার সাতশ জন শিক্ষক যুক্ত হবেন। প্রকল্প কাঠামো অনুযায়ী এসব শিক্ষকদের সম্মানী প্রদান করা হবে।

মেটা বিবরণ
রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য প্রাক্‌প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা চালু করতে ইউনিসেফের সঙ্গে দুইশ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিল সরকার।