যুক্তরাষ্ট্রের নারী স্বাস্থ্য বিষয়ক সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিজের ‘ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা’ নিয়ে গর্ব করা অনেক সময় উল্টো ফল বয়ে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথা চেপে রাখা বা অবহেলা করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
ব্যথা সহ্য করার গর্ব কেন ক্ষতিকর
অস্থি ও জয়েন্টের চিকিৎসায় যুক্ত এক অভিজ্ঞ নারী সার্জনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক নারীই বলেন তাঁদের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বেশি। ভাঙা নিতম্ব, শক্ত হয়ে যাওয়া কাঁধ কিংবা গুরুতর অস্থি সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেও তাঁরা চিকিৎসকের কাছে ব্যথার কথা খোলাখুলি বলেন না। এই নীরবতাই সমস্যাকে জটিল করে তোলে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে ব্যথা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে না।
স্নায়ুতন্ত্রের অতিসংবেদনশীলতা কীভাবে বাড়ে
বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপিত ব্যথা স্নায়ুতন্ত্রকে অতিসংবেদনশীল করে তুলতে পারে। এতে সামান্য ব্যথার সংকেত ও মস্তিষ্কে অনেক বেশি তীব্র ভাবে ধরা পড়ে। সহজভাবে বললে, ব্যথা শোনার শব্দ যেন হঠাৎ খুব জোরে বেড়ে যায়। ফলে যন্ত্রণার অনুভূতি কমার বদলে বাড়তেই থাকে।

পুরোনো উপদেশ বদলানোর সময়
অনেক দিন ধরে সমাজে প্রচলিত ছিল ‘কষ্ট চেপে রাখলেই শক্ত হওয়া যায়’। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধারণা ভাঙার সময় এসেছে। ব্যথা হলে তা নিয়ে কথা বলা, দ্রুত সহায়তা নেওয়া এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করাই আসল শক্তি। এতে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা কমে এবং সুস্থতা ও টেকসই হয়।
আগেভাগে চিকিৎসাই সমাধান
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্পষ্ট। ব্যথাকে ছোট করে দেখা যাবে না। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হবে, ততই স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক থাকবে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা কমবে। নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়াই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















