সাম্প্রতিক সময়ে খাবার আর পানীয়ের জগতে একটি শব্দ ঘুরেফিরে আসছে—প্রোটিন। ঘরে ঘরে আলোচনায় এখন প্রোটিন মেশানো পানীয়, কফি কিংবা নানা ধরনের তরল খাদ্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নারী স্বাস্থ্য বিষয়ক সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শক্তি বাড়ানো থেকে পেশি গঠনের আশ্বাস দিয়ে এই পানীয়গুলো কতটা কার্যকর, আর কতটাই বা প্রচারণা।
প্রোটিনের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে
গত কয়েক বছরে প্রোটিন শুধু পুষ্টি উপাদান নয়, বরং এক ধরনের প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। জরিপ বলছে, এই চাহিদা বৃদ্ধির বড় অংশের পেছনে রয়েছেন নারীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিন পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। তাই ব্যস্ত জীবনে সহজ সমাধান হিসেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন প্রোটিন পানীয়।
তরল প্রোটিন কি দ্রুত পেশিতে পৌঁছায়
প্রোটিন পানীয়ের অন্যতম দাবি হলো, তরল প্রোটিন নাকি শক্ত খাবারের তুলনায় দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরল প্রোটিন হজম হয় তুলনামূলক দ্রুত, তবে দ্রুত হজম হওয়া আর দ্রুত শোষিত হওয়া এক বিষয় নয়। গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে দ্রুত শোষণ পেশি গঠনে বাড়তি সুবিধা দেয়। বরং শরীর ব্যায়ামের পর প্রায় এক দিন পর্যন্ত প্রোটিন গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে না খেলেও, দিনের ভেতর প্রোটিন পেলেই যথেষ্ট।

পানীয় হলেও প্রোটিন তো প্রোটিনই
খাবার থেকে হোক বা পানীয় থেকে, প্রোটিন শরীরের কাছে একই। যারা দৈনিক নির্দিষ্ট মাত্রার প্রোটিন গ্রহণে পিছিয়ে পড়েন, তাদের জন্য প্রোটিন পানীয় সহায়ক হতে পারে। তবে যারা আগেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পূরণ করছেন, তাদের জন্য বাড়তি প্রোটিন বিশেষ লাভজনক নয়। অতিরিক্ত প্রোটিন অন্য জরুরি পুষ্টি উপাদানের জায়গা দখল করতে পারে, যা শরীরের ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।
খাবারের বিকল্প নয় প্রোটিন পানীয়
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, প্রোটিন পানীয় কখনোই পূর্ণ খাবারের বিকল্প হতে পারে না। শক্ত খাবারের সঙ্গে শরীর পায় আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা তরল পানীয়ে থাকে না। মুরগির মাংস বা ডাল জাত খাবার খেলে যেমন একসঙ্গে নানা পুষ্টি মেলে, পানীয়ে সেই সুবিধা নেই। তাছাড়া তরল প্রোটিন সাময়িকভাবে পেট ভরলেও খুব দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসে।
প্রতিদিন পান করা কতটা নিরাপদ
প্রোটিন পানীয়কে নিয়মিত খাবারের অংশ নয়, বরং প্রয়োজনে সহায়ক হিসেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। ব্যস্ত দিন, ভ্রমণ কিংবা খাবার জোগাড়ের অসুবিধায় মাঝে মধ্যে এসব পানীয় কাজে আসতে পারে। তবে বোতলের ভেতরে কী আছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি। অনেক পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি কিংবা ক্যালোরি থাকতে পারে। মনে রাখতে হবে, শুধু প্রোটিন আছে বলেই কোনো খাবার বা পানীয় স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না।
শেষ কথা
প্রোটিন পানীয় শরীরচর্চার দুনিয়ায় নতুন সংযোজন হলেও, সব সমস্যার সমাধান নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সীমিত প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















