সৌন্দর্য চিকিৎসায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে শরীরের নিজস্ব পুনর্জন্মক্ষমতাকে কাজে লাগানো আধুনিক পদ্ধতি। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরানো কিংবা চুল পড়া কমাতে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে এসব পদ্ধতির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তিন ধরনের পুনর্জন্মমূলক চিকিৎসার কথা উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
ত্বক ও চুলে প্লাটিলেটভিত্তিক চিকিৎসা
ত্বক সতেজ করা ও চুল পড়া কমানোর ক্ষেত্রে প্লাটিলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা ও প্লাটিলেটসমৃদ্ধ ফাইব্রিন এখন বহুল ব্যবহৃত। এই চিকিৎসায় রোগীর নিজের রক্ত সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্লাটিলেট আলাদা করা হয়, যা পরে মাথার ত্বক বা মুখে প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই চিকিৎসা কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সহায়তা করে, ত্বকের গঠন উন্নত করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। সাধারণত কয়েক দফা চিকিৎসার পরই চুলের ঘনত্ব ও গুণগত মানে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

এক্সোসোমে কোষের ভেতরের বার্তা আদানপ্রদান
এক্সোসোমকে বলা হয় ক্ষুদ্র বাহক, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায়। এতে থাকা বৃদ্ধিকারক উপাদান ত্বকের পুনর্গঠন ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক। মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে চুল ঘন ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে, আর ত্বকে প্রয়োগে ত্বকের মান উন্নত হয়। যদিও এই চিকিৎসা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্ণ অনুমোদন পায়নি, তবু সৌন্দর্য চিকিৎসায় এর ব্যবহার বাড়ছে।
কোষের শক্তি বাড়াতে এনএডি প্লাস
এনএডি প্লাস নামে পরিচিত একটি কোএনজাইম বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কমে যায়। এটি কোষের শক্তি উৎপাদন, ডিএনএ মেরামত ও সামগ্রিক কোষস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে এনএডি প্লাসের মাত্রা বাড়লে কোষের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়, যার প্রভাব পড়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও চুলের স্বাস্থ্যে। তাই এই উপাদানকে কেন্দ্র করে আধুনিক সৌন্দর্য চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের সৌন্দর্য চিকিৎসা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌন্দর্য চিকিৎসার এই নতুন ধারায় কৃত্রিমতার চেয়ে শরীরের নিজস্ব ক্ষমতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত গবেষণা ও সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে এসব চিকিৎসা ত্বক ও চুলের যত্নে আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















