হলিউড তারকা মার্গট রবির গলায় ঝুলে থাকা এক প্রাচীন ভারতীয় হীরা আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওয়াদারিং হাইটস’-এর প্রিমিয়ারে কার্টিয়ের নির্মিত নেকলেসে ব্যবহৃত ‘তাজমহল’ নামের এই হীরাকে ঘিরে শুরু হয়েছে উপনিবেশ আমলে লুট হওয়া ঐতিহ্যবাহী গয়না ও নিদর্শন ফেরত দেওয়ার দাবি।
মোগল দরবার থেকে আধুনিক লালগালিচা
চার শতকেরও বেশি পুরোনো এই হীরার শিকড় মোগল ইতিহাসে প্রোথিত। হীরাটির মালিক ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান। হীরার গায়ে খোদাই করা আছে নূরজাহান বেগমে-পাদশাহ নাম ও ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১০৩৭ সন, যা খ্রিস্টাব্দ ১৬২৭ সালের সমতুল্য। খোদাইয়ের সংখ্যাটি জাহাঙ্গীরের শাসনকালের বছরসংখ্যাকেও নির্দেশ করে। জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহান পরবর্তীতে প্রেমের অমর নিদর্শন তাজমহল নির্মাণ করেন, যা এই হীরার নামকরণের সঙ্গেও ইতিহাসগত যোগ তৈরি করে।
উপনিবেশের ছায়া ও মালিকানা বদলের গল্প
উপনিবেশ আমলে ভারতের সঙ্গে সঙ্গে বহু দামী রত্ন বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এই হীরাটিও পরে কার্টিয়েরের হাতে আসে। পরে এটি অভিনেতা রিচার্ড বার্টনের কাছে বিক্রি হয় এবং তিনি স্ত্রী এলিজাবেথ টেলরকে উপহার দেন। টেলরের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে নিলামে ওঠে হৃদয়াকৃতির এই হীরা।
জনমত ও সমালোচনার ঢেউ
মার্গট রবিকে এই নেকলেস ধার দেওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিলাসবহুল গয়না প্রতিষ্ঠানটির কাছে হীরাটি ভারতে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সমালোচকেরা বলছেন, ইতিহাসবাহী নিদর্শন কেবল সাজসজ্জার অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়।

আগের বিতর্ক, নতুন ক্ষত
এই প্রথম নয়, ভারতীয় জনমতের সঙ্গে কার্টিয়েরের সংঘাত। ২০২৫ সালের মেট গালায় পাঞ্জাবি শিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ পাটিয়ালার মহারাজার জন্য তৈরি একটি ঐতিহাসিক নেকলেস ধার নিতে চেয়েছিলেন নিজের সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এর আগে ২০২২ সালের মেট গালায় ইউটিউবার এমা চেম্বারলেন যে চোকার পরেছিলেন, সেটি পাটিয়ালা নেকলেসের অংশ বলে ধারণা করা হয়, যা বিতর্ক আরও উসকে দেয়।
ফেরত আনার দাবি জোরালো
মার্গট রবির উপস্থিতি আবারও উপমহাদেশ থেকে নেওয়া শিল্পবস্তু ফেরত আনার আলোচনাকে সামনে এনেছে। ভারত সরকার ও নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সরকার ও ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে এসব নিদর্শন ফেরত চেয়ে আসছে। ব্রিটিশ রাজমুকুটে থাকা কোহিনূর হীরা এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















