মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত সেনার সরকারি হিসাব ও বাস্তব চিত্রের মধ্যে ফারাক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে সংখ্যা তুলে ধরেছেন, তা ঘিরেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
সরকারি হিসাব বনাম ফেরত আসা মরদেহ
জেলেনস্কি বলেছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পঞ্চান্ন হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। অথচ এর আগের বছর তিনি নিহতের সংখ্যা ছেচল্লিশ হাজার বলেছিলেন। অর্থাৎ এক বছরে নিহত বেড়েছে মাত্র নয় হাজার। কিন্তু একই সময়ে রাশিয়া থেকে প্রায় চৌদ্দ হাজার সেনার মরদেহ ইউক্রেনে ফেরত এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবধান থেকেই প্রশ্ন উঠছে—সরকারি হিসাব কি প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে?
স্বাধীন বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক হিসাব
জেলেনস্কি নিজেও স্বীকার করেছেন, স্বাধীন বিশ্লেষণে নিহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি ধরা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, মরদেহ শনাক্তে বিলম্বের কারণেও এমন পার্থক্য হতে পারে। তবে সমালোচনামূলক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিহত সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকার প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, এতে প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ আটকে থাকতে পারে, যা ইউক্রেনের সামরিক বাজেটের বড় অংশের সমান।
বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ
রাশিয়ার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে, জেলেনস্কির অবস্থান বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। জ্বালানি সংকটের মধ্যে বড় শহরে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি রাশিয়া ভঙ্গ করেছে বলে তিনি সম্প্রতি অভিযোগ তুললেও রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখা হয়েছিল। একই সময়ে ইউক্রেনের এক সংসদ সদস্য মন্তব্য করেছেন, খারাপ খবর ঊর্ধ্বতনদের কাছে পৌঁছায় না, ফলে সরকার মিথ্যার এক বৃত্তে আটকে পড়ছে।
এই পরস্পরবিরোধী তথ্য ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ভেতরেই ইউক্রেন যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক মূল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















