০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত না হলে সামরিক শক্তিও ভঙ্গুর অযৌক্তিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ফাঁদ: কেন বুদ্ধিমান মানুষও টাকার ক্ষেত্রে ভুল করেন জ্বালানির নতুন ভূরাজনীতি: লোহিত সাগরের সংকট কি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দেবে? মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে? রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা সিরাজগঞ্জ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: বিজেপির জন্য নতুন সংকট, নাকি বিরোধীদের শেষ সুযোগ? হার্টের ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’: চাপের মুহূর্তে জীবনের ছন্দ রক্ষার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ বড় পতনে, ডিএসইএক্স কমল ৬৬ পয়েন্ট

বিদ্যুৎ ক্রয়ে বড় সাশ্রয়, তিন সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমালো অন্তর্বর্তী সরকার

জনগণের ওপর বিদ্যুৎ ব্যয়ের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আশুগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুরের তিনটি রাষ্ট্রীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করে কমানো হয়েছে, যার ফলে বছরে প্রায় ১১৯ কোটি টাকার সাশ্রয়ের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওপর বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যয় কমানো এবং জ্বালানি খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

হরিপুর কেন্দ্রের ট্যারিফ কমল
৪১২ মেগাওয়াট ক্ষমতার হরিপুর কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত ট্যারিফ কমিয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৪.৭৫৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪.৭৭৯৬ টাকা। নতুন হার ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ৩০৫ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যার জন্য বছরে প্রায় ১,৪৫৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। অবশিষ্ট চুক্তিকালজুড়ে মোট পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ১৯,৮৬৪ কোটি টাকা হতে পারে।

সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রেও কমলো ব্যয়
৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিদ্ধিরগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফও কমানো হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৫.৫২১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৫.৪২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এতে বছরে প্রায় ৬৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার সাশ্রয় হবে। কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ২৪৮ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং এর জন্য বছরে প্রায় ১,৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট চুক্তিকালে মোট পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২১,৬৭৫ কোটি টাকা হতে পারে।

আশুগঞ্জ কেন্দ্রের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ
৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আশুগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফও কমিয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৫.৭৬৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫.৭৮৪৪ টাকা। নতুন হারে বছরে প্রায় ১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার সাশ্রয় সম্ভব। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বছরে প্রায় ১,৫৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হয় এবং অবশিষ্ট চুক্তিকালে মোট ব্যয় প্রায় ২৩,৮৮০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে সমন্বিত উদ্যোগ
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনটি কেন্দ্রের ট্যারিফ কমানোর ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য বার্ষিক সাশ্রয় পাবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকবে। যেহেতু কেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত, তাই এই সমন্বয় একদিকে উৎপাদন কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যয় কমিয়ে সরকারি অর্থ সুরক্ষিত করবে। জ্বালানি ব্যয় যৌক্তিক করা, ভর্তুকির চাপ কমানো এবং দক্ষ ক্রয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু

বিদ্যুৎ ক্রয়ে বড় সাশ্রয়, তিন সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমালো অন্তর্বর্তী সরকার

০৮:১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনগণের ওপর বিদ্যুৎ ব্যয়ের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আশুগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুরের তিনটি রাষ্ট্রীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করে কমানো হয়েছে, যার ফলে বছরে প্রায় ১১৯ কোটি টাকার সাশ্রয়ের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওপর বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যয় কমানো এবং জ্বালানি খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

হরিপুর কেন্দ্রের ট্যারিফ কমল
৪১২ মেগাওয়াট ক্ষমতার হরিপুর কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত ট্যারিফ কমিয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৪.৭৫৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪.৭৭৯৬ টাকা। নতুন হার ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ৩০৫ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যার জন্য বছরে প্রায় ১,৪৫৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। অবশিষ্ট চুক্তিকালজুড়ে মোট পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ১৯,৮৬৪ কোটি টাকা হতে পারে।

সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রেও কমলো ব্যয়
৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিদ্ধিরগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফও কমানো হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৫.৫২১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৫.৪২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এতে বছরে প্রায় ৬৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার সাশ্রয় হবে। কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ২৪৮ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং এর জন্য বছরে প্রায় ১,৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট চুক্তিকালে মোট পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২১,৬৭৫ কোটি টাকা হতে পারে।

আশুগঞ্জ কেন্দ্রের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ
৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আশুগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফও কমিয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৫.৭৬৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫.৭৮৪৪ টাকা। নতুন হারে বছরে প্রায় ১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার সাশ্রয় সম্ভব। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বছরে প্রায় ১,৫৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হয় এবং অবশিষ্ট চুক্তিকালে মোট ব্যয় প্রায় ২৩,৮৮০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে সমন্বিত উদ্যোগ
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনটি কেন্দ্রের ট্যারিফ কমানোর ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য বার্ষিক সাশ্রয় পাবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকবে। যেহেতু কেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত, তাই এই সমন্বয় একদিকে উৎপাদন কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যয় কমিয়ে সরকারি অর্থ সুরক্ষিত করবে। জ্বালানি ব্যয় যৌক্তিক করা, ভর্তুকির চাপ কমানো এবং দক্ষ ক্রয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।