০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র জোটে নতুন অধ্যায়, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বাণিজ্য জোটে চীনের আধিপত্য ঠেকাতে যৌথ অগ্রযাত্রা

বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আরেকটি কৌশলগত ক্ষেত্রেও একসঙ্গে এগোতে দেখা গেল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল, বিশ্বব্যাপী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারসাম্য আনতে তারা ওয়াশিংটনের উদ্যোগের পাশে রয়েছে। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন।

সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
সম্মেলনের আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর নতুন বাণিজ্য অঞ্চলের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন দেশটির উপরাষ্ট্রপতি। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে বহুমুখী উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা, স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি এবং এমন সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণের লক্ষ্য, যা বাইরের ঝুঁকি ও অস্থিরতা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই সম্মেলনেই ছিল তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ ও ভূকৌশলগত সম্পৃক্ততা জোরদারের নতুন উদ্যোগকে ও ভারত সমর্থন জানিয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজ জোট
নতুন এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানের সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। বর্তমানে এসব খনিজের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের শক্ত অবস্থান রয়েছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ব্যাটারি প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই খনিজগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নিরাপদ ও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকার।

ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
এদিকে সাম্প্রতিক বাজেট উপস্থাপনায় ভারত সরকার খনিজ সমৃদ্ধ বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ বিরল মৃত্তিকা করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আধুনিক চিপ শিল্প সম্প্রসারণে নতুন কর্মসূচিও সামনে আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য প্রযুক্তিখাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং একক আধিপত্য ভাঙা। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উন্নয়ন কর্মসূচি ও নতুন অবকাঠামোগত উদ্যোগ গুলোর কথা ও তুলে ধরেন।

বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার পরপরই এই কৌশলগত সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন সমঝোতার আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে যৌথ পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র জোটে নতুন অধ্যায়, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বাণিজ্য জোটে চীনের আধিপত্য ঠেকাতে যৌথ অগ্রযাত্রা

০৯:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আরেকটি কৌশলগত ক্ষেত্রেও একসঙ্গে এগোতে দেখা গেল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল, বিশ্বব্যাপী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারসাম্য আনতে তারা ওয়াশিংটনের উদ্যোগের পাশে রয়েছে। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন।

সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
সম্মেলনের আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর নতুন বাণিজ্য অঞ্চলের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন দেশটির উপরাষ্ট্রপতি। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে বহুমুখী উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা, স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি এবং এমন সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণের লক্ষ্য, যা বাইরের ঝুঁকি ও অস্থিরতা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই সম্মেলনেই ছিল তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ ও ভূকৌশলগত সম্পৃক্ততা জোরদারের নতুন উদ্যোগকে ও ভারত সমর্থন জানিয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজ জোট
নতুন এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানের সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। বর্তমানে এসব খনিজের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের শক্ত অবস্থান রয়েছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ব্যাটারি প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই খনিজগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নিরাপদ ও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকার।

ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
এদিকে সাম্প্রতিক বাজেট উপস্থাপনায় ভারত সরকার খনিজ সমৃদ্ধ বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ বিরল মৃত্তিকা করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আধুনিক চিপ শিল্প সম্প্রসারণে নতুন কর্মসূচিও সামনে আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য প্রযুক্তিখাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং একক আধিপত্য ভাঙা। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উন্নয়ন কর্মসূচি ও নতুন অবকাঠামোগত উদ্যোগ গুলোর কথা ও তুলে ধরেন।

বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার পরপরই এই কৌশলগত সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন সমঝোতার আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে যৌথ পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে।