মঙ্গলবার বিশ্ব বাজারে শেয়ার বাজারের গতি মন্থর থাকলেও স্বর্ণ ও রূপার দামে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। সাম্প্রতিক তীব্র ওঠানামার মধ্যেই মূল্যবান ধাতু দুটির এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও নিরাপদ সম্পদের দিকে টেনে নিয়েছে। একই সময়ে তেলের দাম বেড়েছে এবং ডলারের মান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেমে এসেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা কর্পোরেট আয় ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করছেন।
স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন
দিনের লেনদেনে স্বর্ণের দাম ছয় শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় চার হাজার নয়শ নব্বই ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের সপ্তাহে স্বর্ণ রেকর্ডের কাছাকাছি উঠে প্রায় পাঁচ হাজার ছয়শত ডলারে গিয়েছিল, পরে দ্রুত নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই দিনের পতনের পর এই তীব্র ঘুরে দাঁড়ানো দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রূপার দামে ও শক্তিশালী পুনরুদ্ধার
রূপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে পনের শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ছিয়াশি ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি আগের সপ্তাহের প্রায় একশ বিশ ডলারের রেকর্ড স্তরের নিচেই রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর এই উত্থান বাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।
অস্থিরতার পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যবান ধাতুর দামের তীব্র ওঠানামার পর পরিস্থিতিতে সাময়িক স্থিরতা এসেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা কম দামে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে বাজারে ফিরছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রূপার চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
ডলারের দুর্বলতা ও চাহিদা বৃদ্ধি
ডলারের মান কমে যাওয়া ও মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রার মান কিছুটা দুর্বল থাকলেও তা মেনে নেওয়া হতে পারে, যদিও এতে দেশটির মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ ও রূপার দিকে আরও ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















