পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান খানের ভিসা প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কাসিম দাবি করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না, ফলে তারা বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
একাকী কারাবাস ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
কাসিম জানান, গত ৯১৪ দিন ধরে ইমরান খান একাকী কারাবাসে রয়েছেন এবং এ সময় তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীন চিকিৎসা সেবার সুযোগ থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একজন বন্দিকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা যেমন নিষ্ঠুর, তেমনি তার সন্তানদের দেখা করার অধিকার না দেওয়া ও সমষ্টিগত শাস্তির শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান
কাসিম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আগে তাদের এ বিষয়ে কথা বলা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কাসিম ও তার বড় ভাই সুলেমান বর্তমানে তাদের মা জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে লন্ডনে বসবাস করছেন।
গোপনে হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা
এর মধ্যেই সম্প্রতি সরকার স্বীকার করেছে যে ইমরান খানকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত খবর প্রকাশের কয়েক দিন পর এই তথ্য সামনে আসে। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ অভিযোগ করে, ইমরানকে গোপনে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তার পরিবার ও দলীয় নেতৃত্ব কে জানানো হয়নি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কাছ থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি
জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাক জাই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি লিখে ইমরান খানের বিশ্বস্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভিসা আবেদন নিয়ে ও অনিশ্চয়তা
ইমরানের দুই ছেলে গত বছরের ডিসেম্বরে ই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে চলতি সপ্তাহে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, সরকার তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















