হাওরঘেরা সুনামগঞ্জ জেলায় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাড়ছে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সরগরম পরিবেশ। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় নিয়েছে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার পাঁচটি আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও নজরদারির নতুন ব্যবস্থা
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৬৪টি এবং ভোটকক্ষ ৪ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে ৪৫১টি কেন্দ্রকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো জেলার সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে ভোটের প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বহুমুখী নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ প্রায় ১৮ হাজার ৩০০ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে পুলিশ ৩ হাজার ৫০০, আনসার ১২ হাজার এবং সেনাবাহিনীর সদস্য ১ হাজার ১০০ জন। পাশাপাশি জেলার ১২টি উপজেলায় সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে মোতায়েন রয়েছে ২৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড।
বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটার আগ্রহ
এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে সুনামগঞ্জ-৪ আসন, যেখানে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবও ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাস
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং মোবাইল টহল দল সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















