চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থার মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেনের গাড়িবহর ঘেরাও করেছেন বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বন্দরের ভবনের সামনে পৌঁছালে শত শত শ্রমিক যানবাহন ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন এবং গাড়িবহরের গতি রুদ্ধ করে দেন। প্রায় পনেরো মিনিট পর পুলিশ ও বন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় গাড়িবহরটি বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে।
টানা পঞ্চম দিনের ধর্মঘটে স্থবির বন্দর
নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। এই ধর্মঘটের কারণে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ কার্গো জেটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল ও নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ সব জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙর ও জেটিতে পণ্যবোঝাই জাহাজ আটকে আছে, ইয়ার্ড থেকে পণ্য সরবরাহ এবং বন্দরে পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও বহির্গমনও থমকে গেছে।
জরুরি বৈঠকে সমাধানের চেষ্টা
সকালে ঢাকায় থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি বন্দরে যান নৌপরিবহন উপদেষ্টা। তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান। বন্দরে প্রবেশের পর চলমান ধর্মঘট ও অচলাবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি
বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে নতুন মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা। এর আগে টানা তিন দিনের কর্মবিরতির পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় অন্তত পনেরো জন বন্দর কর্মকর্তাকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রথমে চব্বিশ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে তা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















