ঢাকার পল্লবীর ওয়াপদা বিহারি ক্যাম্প এলাকায় একটি ঘরের ভেতর থেকে দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধারকে ঘিরে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চরম আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ এই পরিবারের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি প্রাণের এমন নিভে যাওয়া এলাকায় গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে।
নিহতদের পরিচয়
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান মিনহাজ (৪) ও আসাদ (২)। পল্লবী ১১ নম্বর এলাকার ওয়াপদা-৩ ভবনের একটি টিনশেড ঘরে তারা বসবাস করতেন। মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
ঋণের চাপ ও পারিবারিক সংকট
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটি বিভিন্ন সমিতি ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল এবং সেই ঋণের চাপ দিন দিন বাড়ছিল। পাওনাদাররা প্রায়ই বাসায় এসে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন। এই অব্যাহত মানসিক চাপ পরিবারটিকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে যা বলছে পুলিশ
মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফারজিনা নাসরিন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে দম্পতি আগে দুই সন্তানকে হত্যা করে পরে নিজেরাও আত্মহত্যা করেছেন। তবে চারজনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া
হঠাৎ এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রতিবেশীরা স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। শিশুদের প্রাণহানি বিশেষভাবে সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক সহায়তার অভাব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই করুণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















