আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট নতুন করে রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে। মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের পৃথক গ্রামে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১৯১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ মানতে অস্বীকৃতি জানানো সাধারণ মানুষকেই লক্ষ্য করে এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
কোয়ারা রাজ্যে আগুন, গুলি ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
মধ্যাঞ্চলের কোয়ারা রাজ্যের ওরো ও নুকু গ্রামে হামলাকারীরা বাড়িঘর ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বেঁধে ফেলে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। কাছ থেকে গুলি, গলা কেটে দেওয়া এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ভয়াবহতার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। হামলার পরও অনেক পরিবার নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক জনকে অপহরণের ঘটনা ও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
কাটসিনা রাজ্যে পৃথক হামলায় নিহত আরও ২১
উত্তরের কাটসিনা রাজ্যের ডোমা গ্রামে আরেকটি সশস্ত্র হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন। হামলাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গুলি চালায় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তি ছিল, যা এই হামলার পর কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সরকারের অভিযোগ উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে কাপুরুষোচিত ও পাশবিক বলে নিন্দা জানিয়ে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চরমপন্থী মতাদর্শ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোয়ারা রাজ্যে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটে চাপে সরকার
জঙ্গি তৎপরতা ও সশস্ত্র দস্যু গোষ্ঠীর কারণে বহু বছর ধরেই অস্থিতিশীলতায় ভুগছে নাইজেরিয়া। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর সংকট মোকাবিলায় সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তার জন্য সীমিত পরিসরে বিদেশি সামরিক সহযোগিতার কথাও উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















