০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
খুলনায় মাথায় গুলি করে যুবক হত্যা, আধিপত্য ও মাদক বিরোধে চাঞ্চল্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের গুলি, শিশুসহ পাঁচজন আহত চট্টগ্রাম বন্দরে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত, আমদানি-রফতানি ও রমজান বাজারে বড় ঝুঁকির শঙ্কা চীন কিউবাকে সমর্থন দিল যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে: কূটনীতি জোরালো হলো  হঠাৎ ট্রাম্পের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দিল্লিতে বিস্ময় কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা, জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেন ট্রাম্প, কড়া ভোট সংস্কারের জোর দাবি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি শেষ ধাপে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার ধন্যবাদ পাকিস্তান: ভারত বয়কট ইস্যুতে বিসিবি-পিসিবি ঘনিষ্ঠতার জল্পনা তুঙ্গে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে ছাঁটাই, পিএসএলে ফিরেই বেতন কমল প্রায় সত্তর সাত শতাংশ

‘রাজনীতি খুবই কম বুঝি, আমরা বুঝি পেট নীতি’

সুন্দরবন ও এর আশেপাশের নদীকে ঘিরে জীবন-জীবিকা যাদের, এমনএকজন নারী

“নদীতে সন্ধ্যা রাত্তিরে যে সময় বোট না আসতি পারে, সেই সময় ফাঁকে দুইজন চইলে যাই। যখন দেখি অনেক দূরে বোট আছে তখন দুটো ওঁচোল দিয়ে টুপ কইরে চইলে আসি। বাজারে ছেটে দিয়ে আসি, দুইশো, একশো যা হয় তাই দিয়ে চলি”- কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার পশ্চিম চিলার এলাকার চপলা রানী মণ্ডল।

নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় কিভাবে সরকারি অভিযানকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ ধরেন, সেই কথাটিই বলছিলেন মিজ মণ্ডল। যে মাছ ধরেন, তা বাজারে বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থান ‘ছেট’ এ দেওয়ার কথা বলছিলেন তিনি।

মোংলার যে পাড়ায় তার ঘরে বসে কথা হচ্ছিলো, তার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে পশুর নদী।

সুন্দরবনের ঢাংমারি নদী, পশুর নদী, ঘসিয়াখালী চ্যানেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন মিজ মণ্ডলের মতো এখানকার প্রায় আড়াই হাজার বাসিন্দা।

কেবল চপলা রানী মণ্ডলই নয়, ক্লারা সরকারসহ আরো অনেক নারীই পুরুষদের সাথে মাছ ধরার জন্য নদীর লবনাক্ত পানিতে নামেন।

তবে, মাছ ধরাই তাদের মূল পেশা নয়, যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন সংসার চালানোর জন্য সুন্দরবনের কাঠ কুড়ানো, কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহের মতো নানাবিধ কাজও করেন তারা।

সুন্দরবন ও এর আশেপাশের নদীকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে এই বাসিন্দাদের সাধারণত বনজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

জীবিকা নির্বাহের জন্য একেক মৌসুমে একেক পেশা বেছে নেন তারা।

সোমবার দুপুরে যে সময় তাদের সাথে কথা হয়, তখন এই পাড়ায় দুই একজন বাদে আর কোনো পুরুষ সদস্যকে দেখা যায়নি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে এই এলাকাটি বাগেরহাট -৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত।

এই আসনটি রামপাল ও মোংলা নিয়ে গঠিত।

এখানকার বাসিন্দাদের কাছে নির্বাচন মানে মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, তারা চান, খাওয়া-পড়ার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা।

পশ্চিম চিলার এই গ্রামে পশুর নদীর কোল ঘেঁষে যে ভাঙা বাড়ির টিন দেখা যাচ্ছে সেটির বাকি অংশ নদীতে তলিয়ে গেছে। এখানেই অন্যের জমিতে ঘর বেঁধে বনজীবীরা থাকেন।

এই পশ্চিম চিলা গ্রামটি মোংলা উপজেলার ছয় নম্বর চিলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

ভোট মানে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চান চপলা রানী

মোংলার পশ্চিম চিলা, জয়মনি ঘোলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই বনজীবীদের বসবাস।

তবে, তাদের নিজেদের কোন জমি নেই, অন্যের জমিতে ঘর বানিয়ে থাকছেন মিজ মণ্ডলসহ অন্যান্যরা।

পশ্চিম চিলার এই গ্রামটিতে গিয়ে বিবিসি বাংলার কথা হয় ক্লারা সরকার, বুলি বেগম, চপলা রানী মণ্ডল, কৃষ্ণা দাস, নমিতা রানীসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে।

এই পশ্চিম চিলা গ্রামটি মোংলা উপজেলার ছয় নম্বর চিলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

চপলা রানী সুন্দরবনকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহের ভয়াবহতা উল্লেখ করে তাদেরই একজনের কথা বলছিলেন যাকে বাঘ টেনে নিয়ে ডান কাঁধ খেয়ে ফেলেছে বলে জানান।

নিজের ডান কাঁধ দেখিয়ে মিজ মণ্ডল বলেন, “আমাগো বাড়ির পাশের সেই লোকটারে এখান থেকে(কাঁধে) খাইয়ে ফেলিছে। অনেক লোক যাইয়ে পরে তারে বাঘের মুখের থিকা টাইনে আনিছে। হাসপাতালে ভর্তি করি চিকিৎসা করিছে, এখনও অসুস্থ আছে।”

ওই আহত ব্যক্তি এখনও অসুস্থ থাকায় উপার্জন করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

ফলে সংসার চালানো ঠিক কতটা কঠিন এমন কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মিজ মণ্ডল বলছিলেন, তার স্বামীর পায়ে সমস্যা থাকায় ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না।

তাই অন্তত সাত সদস্যের পরিবারের খাওয়া যোগাতে স্বামীর সাথে তিনি নিজেও মাছ ধরতে যান। কখনো কখনো মেয়ে বা ছেলেরাও তার সংসারে সাহায্য করেন।

যখন মাছ ধরতে পারেন না, তখন কাঁকড়া ধরার মৌসুম থাকলে কাঁকড়া অথবা কাঠ কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসার চালান তারা।

নিজের কোনো ঘরবাড়ি না থাকলেও একসময় শ্বশুরের বাড়ি ছিলো বলে জানান মিজ মণ্ডল।

কিন্তু পশুর নদীর ভাঙনে সেই ঘরবাড়িও বিলীন হয়ে গেছে।

এখন স্থানীয় একজন অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তির বাড়িতে অনুমতি নিয়ে থাকছেন মিজ মণ্ডল।

সম্ভব হলে কখনো কখনো বছরে একবার তাকে হয়তো দুইশো বা তিনশো টাকা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে কখনো কখনো তাও সম্ভব হয় না।

কয়েক দফায় মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় সারা বছর মাছ ধরে উপার্জন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, তার কোনো জেলে কার্ড নেই।

২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার পশুর নদীতে মাছ ধরেন এমন ৮৭১ জনকে জেলে কার্ড দিয়েছিলো।

ফলে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় কেবল ওই জেলে কার্ডধারীরাই সরকারি অনুদানের চাল পেয়ে থাকেন। ভিজিএফ কার্ডের আওতায় সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়।

সরকার নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, বছরের যে ৫৭ দিন মাছ ধরা যায় না, সেই সময় যার কার্ড থাকে তিনি সরকারের কাছ থেকে ৭১ কেজি চাল পান।

প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০শে জুন আট মাস সাধারণত জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে।

সেসময় যেসব কার্ডধারী জেলেরা ইলিশ মাছ ধরেন, তারা চার মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে এক মণ করে চাল পান।

এক্ষেত্রে মৎস্য অধিদপ্তর নদীতে ইলিশ মাছ ধরে, এমন জেলেদের শ্রেণিভুক্ত করে সরকারি সাহায্য দিয়ে থাকে বলে জানান তারা।

তবে এমন কার্ডধারীর সংখ্যা এখানে খুবই কম বলে জানান ক্লারা সরকার।

এখানকার আড়াই হাজার পরিবারের প্রায় প্রত্যেকেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু কার্ড আর পাননি বলে জানান এখানকার অনেক বাসিন্দাই।

তাই কেবল মিজ মণ্ডলই নন ক্লারা সরকার, বুলি বেগম, কৃষ্ণা দাস, নমিতা রানীসহ প্রায় প্রত্যেকেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চান।

ক্লারা সরকার যেমনটা বলছিলেন, “আমরা আসলে রাজনীতি খুবই কম বুঝি। দরিদ্র এলাকার লোকজন আমরা বুঝি পেটনীতি। মা হিসেবে লজ্জিত যে ছেলে, মেয়েদের মুখে খাবার দিতে পারি না।”

মিজ সরকার নদীতে বাগদা চিংড়ি ধরে জীবিকা উপার্জন করেন বলে জানান।

সরকারি ভিজিএফ কার্ড, রেশন কার্ড, জেলে কার্ড যাদের আছে, তারাই কেবল সাহায্য পেয়ে থাকেন বলে জানান তিনি।

তবে তার কোনো কার্ডই নেই উল্লেখ করেন মিজ সরকার।

এই নারীদের প্রত্যেকেই বলছেন, তারা ভোট দেবেন কিন্তু নতুন সরকারের কাছে দাবি স্থায়ী কর্মসংস্থান।

মিজ ক্লারার ভাষায়, “যাতে পরে আমি ছেলে, মেয়ের মুখে দুইটা অন্ন দিতে পারি। একটু পড়ালেখা করাইতে পারি।”

 ক্লারা সরকার

নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান ক্লারা সরকার।

‘চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ভালো রাস্তাঘাট চাই’

হিন্দু মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বসবাস এই গ্রামটিতে। পশুর নদীর কোলে দেখা যায় ভাঙা একটি ঘর যার বেশিরভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সেটিই চপলা রানী মণ্ডলের শ্বশুর বাড়ি ছিল। কোনো কোনো বাড়ির পাশে নদীর কোল ঘেঁষে গোলপাতার গাছ রয়েছে।

সুন্দরবনের ঢাঙমারি নদী বা পশুর নদী যেটির কথাই বলি না কেন প্রাকৃতিক কারণেই এখানকার সব নদীর পানিই লবনাক্ত।

এই লবনাক্ত পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে নারীরা নানা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু এসব সমস্যার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা পান না তারা।

মোংলার এই ইউনিয়নে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায় বলে জানান পশ্চিম চিলার একটি দোকানের কর্মী রমেশ দাস।

মি. দাস বলছিলেন, “জ্বর হলি পরে গেলে ওষুধ দেয়, আমগোর বড় কোনো রোগে তো কামে আহে না।”

এখানকার বনজীবীদের অনেকেই জানান, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গেলে বা মাছ ধরার সময় কেউ যদি কখনো অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে তাকে এখানে এনে পর্যাপ্ত চিকিৎসা করা যায় না।

কৃষ্ণা দাসের স্বামী যেমন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করেন। কিন্তু কমিউনিটি হাসপাতালে নেই এমন জটিল চিকিৎসার সুযোগ।

ফলে শরীরের বামপাশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ক্লারা সরকার নারীদের শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মহিলাদের আসলে জরায়ুর সমস্যা হয়। লবনাক্ত পানির কারণে বন্ধ্যাত্বতা বেড়ে গেছে। শরীরে অনেক ধরনের চুলকানি আছে। এখন লবন পানি, প্রায় ঘরে ঘরে ডায়রিয়া হবে। ছেলেমেয়েরা অসুস্থ থাকবে।”

তাই নিজের ইউনিয়নে বা এলাকায় ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা চান মিজ সরকার।

১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট দেবেন কি না- এমন প্রশ্নে মিজ সরকার বলেন, নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন হয় কিনা, তা দেখতে এবার ভোট দেবেন।

মিজ সরকারের কাছে নির্বাচনের অর্থ হলো সবাইকে নিয়ে সুন্দরভঅবে বসবাস করা, ছেলে-মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, তাদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া।

“ভোট দিলে যদি কাজের ব্যবস্থা হয়….. তো দিলাম” বলেন মিজ সরকার।

গত সোমবার মোংলা থেকে ফেরি পার হয়ে যতই সামনে এগোই, আমরা ততই এই এলাকার রাস্তা-ঘাটের করুণ দশা দেখতে পাই। পশ্চিম চিলা পর্যন্ত যাওয়ার একটা বিশাল পথের পুরো রাস্তায়ই মাটি খুঁড়ে রাখা, শেষ হয়নি সড়কের কাজ।

এমন পথগুলোতে যখন গাড়ি এগোচ্ছিলো, তখন অপর পাশ থেকে আসা যে কোন বাহনকে থেমে যেতে হচ্ছিলো। কারণ ভাঙা রাস্তার একপাশে ফেলে রাখা মাটি ও ইটের টুকরোর কারণে কেবল একটি গাড়িই পার হতে পারে।

নির্বাচনের মাধ্যমে মিজ সরকার মূলত এই ভাঙাচোরা সড়কের অবস্থারও পরিবর্তন চান।

বুলি বেগম

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুলি বেগম।

নারীরা চান চলাচলের নিরাপত্তা

অনেক সময় কাজ না থাকলে সংসার চালাতে এখানকার বাসিন্দাদের ধার-দেনা করতে হয় বলে জানান বুলি বেগম। ফলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা।

এই এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুলি বেগম, ক্লারা সরকার, কৃষ্ণা দাস ও নমিতা রানী।

বুলি বেগম যেমনটা বলছিলেন, “হাসিনা নাইমা যাওয়ার পরের থেকে প্রথম প্রথম কয়দিন শোনা গেছে ওমুক জায়গায় মেয়ে নিয়ে গেছে, ওমুক জায়গায় ধর্ষণ হইছে, ওমুক জায়গায় মারিছে-ধরিছে। তারপর এখন কয় মাস (ইদানীং) শোনা যাচ্ছে না।”

রাজনৈতিকভাবে বেশ সচেতন মিজ বেগম চান, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এলে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান তিনি।

বুলি বেগম নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কার কথা বলেন, সেটির প্রমাণ মেলে ক্লারা সরকারের কথায়। যার নিজের ভাইয়ের মেয়ে নিখোঁজ।

তিনি জানান, ওই কিশোরী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সেন্ট পল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এই সপ্তাহেরই শনিবার থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘটনায় থানায় জিডি ও মামলা করা হয়েছে বলে জানান মিজ সরকার।

“সে কোচিং এ যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়, তার সাথে কোচিং এর ব্যাগ ছিল। পরে জানতে পারি আমার ভাইয়ের মেয়েটা মালগাজীর একটা ছেলের সাথে চলে গেছে। তারপর থেকে বিভিন্নভাবে আমরা গ্রামের লোকজনসহ প্রেশার দিছি। জিডি করেছি থানায়, মামলা দিছি। কিন্তু এখনও আমরা মেয়েটা উদ্ধার করতে পারিনি” বলেন মিজ সরকার।

তাই ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তনের আশা করেন তিনি। নতুন সরকারের কাছে নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান।

তবে মিজ সরকার জানান, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও ততটা তৎপর নয়।

তার ভাষায় পুলিশের ভূমিকা “খুবই দুর্বল।”

জেলে বিদ্যুৎ মণ্ডল বলছিলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে অনেকটা বুদ্ধি খাটিয়েই টিকে থাকতে হয় তাদের।

মি. মণ্ডল জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি। তিনি বলছিলেন, “দুর্যোগটা যখন দ্রুত উঠে আসে, আমাদের উপকূলীয় এলাকায় কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়। কোনো সাইক্লোন সেন্টার নাই যেখানে দুর্যোগের সময় দ্রুত অবস্থান নেবে।”

মি. মণ্ডল বলছেন, “ভোট আসে আর যায়। কেউই নজর দেয় না।”

তাই যেসব জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট, বয়াসহ নিরাপত্তা সামগ্রী, অসুস্থ বা আহত বনজীবীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ চান মি. মণ্ডল।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সাতজন বৈধ প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ।

এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। দল থেকে তিনি বহিস্কার হয়েছেন।

 

বিবিসি নিউজ বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাথায় গুলি করে যুবক হত্যা, আধিপত্য ও মাদক বিরোধে চাঞ্চল্য

‘রাজনীতি খুবই কম বুঝি, আমরা বুঝি পেট নীতি’

০৫:২১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“নদীতে সন্ধ্যা রাত্তিরে যে সময় বোট না আসতি পারে, সেই সময় ফাঁকে দুইজন চইলে যাই। যখন দেখি অনেক দূরে বোট আছে তখন দুটো ওঁচোল দিয়ে টুপ কইরে চইলে আসি। বাজারে ছেটে দিয়ে আসি, দুইশো, একশো যা হয় তাই দিয়ে চলি”- কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার পশ্চিম চিলার এলাকার চপলা রানী মণ্ডল।

নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় কিভাবে সরকারি অভিযানকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ ধরেন, সেই কথাটিই বলছিলেন মিজ মণ্ডল। যে মাছ ধরেন, তা বাজারে বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থান ‘ছেট’ এ দেওয়ার কথা বলছিলেন তিনি।

মোংলার যে পাড়ায় তার ঘরে বসে কথা হচ্ছিলো, তার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে পশুর নদী।

সুন্দরবনের ঢাংমারি নদী, পশুর নদী, ঘসিয়াখালী চ্যানেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন মিজ মণ্ডলের মতো এখানকার প্রায় আড়াই হাজার বাসিন্দা।

কেবল চপলা রানী মণ্ডলই নয়, ক্লারা সরকারসহ আরো অনেক নারীই পুরুষদের সাথে মাছ ধরার জন্য নদীর লবনাক্ত পানিতে নামেন।

তবে, মাছ ধরাই তাদের মূল পেশা নয়, যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন সংসার চালানোর জন্য সুন্দরবনের কাঠ কুড়ানো, কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহের মতো নানাবিধ কাজও করেন তারা।

সুন্দরবন ও এর আশেপাশের নদীকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে এই বাসিন্দাদের সাধারণত বনজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

জীবিকা নির্বাহের জন্য একেক মৌসুমে একেক পেশা বেছে নেন তারা।

সোমবার দুপুরে যে সময় তাদের সাথে কথা হয়, তখন এই পাড়ায় দুই একজন বাদে আর কোনো পুরুষ সদস্যকে দেখা যায়নি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে এই এলাকাটি বাগেরহাট -৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত।

এই আসনটি রামপাল ও মোংলা নিয়ে গঠিত।

এখানকার বাসিন্দাদের কাছে নির্বাচন মানে মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, তারা চান, খাওয়া-পড়ার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা।

পশ্চিম চিলার এই গ্রামে পশুর নদীর কোল ঘেঁষে যে ভাঙা বাড়ির টিন দেখা যাচ্ছে সেটির বাকি অংশ নদীতে তলিয়ে গেছে। এখানেই অন্যের জমিতে ঘর বেঁধে বনজীবীরা থাকেন।

এই পশ্চিম চিলা গ্রামটি মোংলা উপজেলার ছয় নম্বর চিলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

ভোট মানে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চান চপলা রানী

মোংলার পশ্চিম চিলা, জয়মনি ঘোলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই বনজীবীদের বসবাস।

তবে, তাদের নিজেদের কোন জমি নেই, অন্যের জমিতে ঘর বানিয়ে থাকছেন মিজ মণ্ডলসহ অন্যান্যরা।

পশ্চিম চিলার এই গ্রামটিতে গিয়ে বিবিসি বাংলার কথা হয় ক্লারা সরকার, বুলি বেগম, চপলা রানী মণ্ডল, কৃষ্ণা দাস, নমিতা রানীসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে।

এই পশ্চিম চিলা গ্রামটি মোংলা উপজেলার ছয় নম্বর চিলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

চপলা রানী সুন্দরবনকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহের ভয়াবহতা উল্লেখ করে তাদেরই একজনের কথা বলছিলেন যাকে বাঘ টেনে নিয়ে ডান কাঁধ খেয়ে ফেলেছে বলে জানান।

নিজের ডান কাঁধ দেখিয়ে মিজ মণ্ডল বলেন, “আমাগো বাড়ির পাশের সেই লোকটারে এখান থেকে(কাঁধে) খাইয়ে ফেলিছে। অনেক লোক যাইয়ে পরে তারে বাঘের মুখের থিকা টাইনে আনিছে। হাসপাতালে ভর্তি করি চিকিৎসা করিছে, এখনও অসুস্থ আছে।”

ওই আহত ব্যক্তি এখনও অসুস্থ থাকায় উপার্জন করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

ফলে সংসার চালানো ঠিক কতটা কঠিন এমন কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মিজ মণ্ডল বলছিলেন, তার স্বামীর পায়ে সমস্যা থাকায় ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না।

তাই অন্তত সাত সদস্যের পরিবারের খাওয়া যোগাতে স্বামীর সাথে তিনি নিজেও মাছ ধরতে যান। কখনো কখনো মেয়ে বা ছেলেরাও তার সংসারে সাহায্য করেন।

যখন মাছ ধরতে পারেন না, তখন কাঁকড়া ধরার মৌসুম থাকলে কাঁকড়া অথবা কাঠ কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসার চালান তারা।

নিজের কোনো ঘরবাড়ি না থাকলেও একসময় শ্বশুরের বাড়ি ছিলো বলে জানান মিজ মণ্ডল।

কিন্তু পশুর নদীর ভাঙনে সেই ঘরবাড়িও বিলীন হয়ে গেছে।

এখন স্থানীয় একজন অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তির বাড়িতে অনুমতি নিয়ে থাকছেন মিজ মণ্ডল।

সম্ভব হলে কখনো কখনো বছরে একবার তাকে হয়তো দুইশো বা তিনশো টাকা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে কখনো কখনো তাও সম্ভব হয় না।

কয়েক দফায় মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় সারা বছর মাছ ধরে উপার্জন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, তার কোনো জেলে কার্ড নেই।

২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার পশুর নদীতে মাছ ধরেন এমন ৮৭১ জনকে জেলে কার্ড দিয়েছিলো।

ফলে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় কেবল ওই জেলে কার্ডধারীরাই সরকারি অনুদানের চাল পেয়ে থাকেন। ভিজিএফ কার্ডের আওতায় সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়।

সরকার নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, বছরের যে ৫৭ দিন মাছ ধরা যায় না, সেই সময় যার কার্ড থাকে তিনি সরকারের কাছ থেকে ৭১ কেজি চাল পান।

প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০শে জুন আট মাস সাধারণত জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে।

সেসময় যেসব কার্ডধারী জেলেরা ইলিশ মাছ ধরেন, তারা চার মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে এক মণ করে চাল পান।

এক্ষেত্রে মৎস্য অধিদপ্তর নদীতে ইলিশ মাছ ধরে, এমন জেলেদের শ্রেণিভুক্ত করে সরকারি সাহায্য দিয়ে থাকে বলে জানান তারা।

তবে এমন কার্ডধারীর সংখ্যা এখানে খুবই কম বলে জানান ক্লারা সরকার।

এখানকার আড়াই হাজার পরিবারের প্রায় প্রত্যেকেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু কার্ড আর পাননি বলে জানান এখানকার অনেক বাসিন্দাই।

তাই কেবল মিজ মণ্ডলই নন ক্লারা সরকার, বুলি বেগম, কৃষ্ণা দাস, নমিতা রানীসহ প্রায় প্রত্যেকেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চান।

ক্লারা সরকার যেমনটা বলছিলেন, “আমরা আসলে রাজনীতি খুবই কম বুঝি। দরিদ্র এলাকার লোকজন আমরা বুঝি পেটনীতি। মা হিসেবে লজ্জিত যে ছেলে, মেয়েদের মুখে খাবার দিতে পারি না।”

মিজ সরকার নদীতে বাগদা চিংড়ি ধরে জীবিকা উপার্জন করেন বলে জানান।

সরকারি ভিজিএফ কার্ড, রেশন কার্ড, জেলে কার্ড যাদের আছে, তারাই কেবল সাহায্য পেয়ে থাকেন বলে জানান তিনি।

তবে তার কোনো কার্ডই নেই উল্লেখ করেন মিজ সরকার।

এই নারীদের প্রত্যেকেই বলছেন, তারা ভোট দেবেন কিন্তু নতুন সরকারের কাছে দাবি স্থায়ী কর্মসংস্থান।

মিজ ক্লারার ভাষায়, “যাতে পরে আমি ছেলে, মেয়ের মুখে দুইটা অন্ন দিতে পারি। একটু পড়ালেখা করাইতে পারি।”

 ক্লারা সরকার

নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান ক্লারা সরকার।

‘চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ভালো রাস্তাঘাট চাই’

হিন্দু মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বসবাস এই গ্রামটিতে। পশুর নদীর কোলে দেখা যায় ভাঙা একটি ঘর যার বেশিরভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সেটিই চপলা রানী মণ্ডলের শ্বশুর বাড়ি ছিল। কোনো কোনো বাড়ির পাশে নদীর কোল ঘেঁষে গোলপাতার গাছ রয়েছে।

সুন্দরবনের ঢাঙমারি নদী বা পশুর নদী যেটির কথাই বলি না কেন প্রাকৃতিক কারণেই এখানকার সব নদীর পানিই লবনাক্ত।

এই লবনাক্ত পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে নারীরা নানা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু এসব সমস্যার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা পান না তারা।

মোংলার এই ইউনিয়নে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায় বলে জানান পশ্চিম চিলার একটি দোকানের কর্মী রমেশ দাস।

মি. দাস বলছিলেন, “জ্বর হলি পরে গেলে ওষুধ দেয়, আমগোর বড় কোনো রোগে তো কামে আহে না।”

এখানকার বনজীবীদের অনেকেই জানান, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গেলে বা মাছ ধরার সময় কেউ যদি কখনো অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে তাকে এখানে এনে পর্যাপ্ত চিকিৎসা করা যায় না।

কৃষ্ণা দাসের স্বামী যেমন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করেন। কিন্তু কমিউনিটি হাসপাতালে নেই এমন জটিল চিকিৎসার সুযোগ।

ফলে শরীরের বামপাশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ক্লারা সরকার নারীদের শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মহিলাদের আসলে জরায়ুর সমস্যা হয়। লবনাক্ত পানির কারণে বন্ধ্যাত্বতা বেড়ে গেছে। শরীরে অনেক ধরনের চুলকানি আছে। এখন লবন পানি, প্রায় ঘরে ঘরে ডায়রিয়া হবে। ছেলেমেয়েরা অসুস্থ থাকবে।”

তাই নিজের ইউনিয়নে বা এলাকায় ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা চান মিজ সরকার।

১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট দেবেন কি না- এমন প্রশ্নে মিজ সরকার বলেন, নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন হয় কিনা, তা দেখতে এবার ভোট দেবেন।

মিজ সরকারের কাছে নির্বাচনের অর্থ হলো সবাইকে নিয়ে সুন্দরভঅবে বসবাস করা, ছেলে-মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, তাদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া।

“ভোট দিলে যদি কাজের ব্যবস্থা হয়….. তো দিলাম” বলেন মিজ সরকার।

গত সোমবার মোংলা থেকে ফেরি পার হয়ে যতই সামনে এগোই, আমরা ততই এই এলাকার রাস্তা-ঘাটের করুণ দশা দেখতে পাই। পশ্চিম চিলা পর্যন্ত যাওয়ার একটা বিশাল পথের পুরো রাস্তায়ই মাটি খুঁড়ে রাখা, শেষ হয়নি সড়কের কাজ।

এমন পথগুলোতে যখন গাড়ি এগোচ্ছিলো, তখন অপর পাশ থেকে আসা যে কোন বাহনকে থেমে যেতে হচ্ছিলো। কারণ ভাঙা রাস্তার একপাশে ফেলে রাখা মাটি ও ইটের টুকরোর কারণে কেবল একটি গাড়িই পার হতে পারে।

নির্বাচনের মাধ্যমে মিজ সরকার মূলত এই ভাঙাচোরা সড়কের অবস্থারও পরিবর্তন চান।

বুলি বেগম

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুলি বেগম।

নারীরা চান চলাচলের নিরাপত্তা

অনেক সময় কাজ না থাকলে সংসার চালাতে এখানকার বাসিন্দাদের ধার-দেনা করতে হয় বলে জানান বুলি বেগম। ফলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা।

এই এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুলি বেগম, ক্লারা সরকার, কৃষ্ণা দাস ও নমিতা রানী।

বুলি বেগম যেমনটা বলছিলেন, “হাসিনা নাইমা যাওয়ার পরের থেকে প্রথম প্রথম কয়দিন শোনা গেছে ওমুক জায়গায় মেয়ে নিয়ে গেছে, ওমুক জায়গায় ধর্ষণ হইছে, ওমুক জায়গায় মারিছে-ধরিছে। তারপর এখন কয় মাস (ইদানীং) শোনা যাচ্ছে না।”

রাজনৈতিকভাবে বেশ সচেতন মিজ বেগম চান, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এলে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান তিনি।

বুলি বেগম নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কার কথা বলেন, সেটির প্রমাণ মেলে ক্লারা সরকারের কথায়। যার নিজের ভাইয়ের মেয়ে নিখোঁজ।

তিনি জানান, ওই কিশোরী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সেন্ট পল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এই সপ্তাহেরই শনিবার থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘটনায় থানায় জিডি ও মামলা করা হয়েছে বলে জানান মিজ সরকার।

“সে কোচিং এ যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়, তার সাথে কোচিং এর ব্যাগ ছিল। পরে জানতে পারি আমার ভাইয়ের মেয়েটা মালগাজীর একটা ছেলের সাথে চলে গেছে। তারপর থেকে বিভিন্নভাবে আমরা গ্রামের লোকজনসহ প্রেশার দিছি। জিডি করেছি থানায়, মামলা দিছি। কিন্তু এখনও আমরা মেয়েটা উদ্ধার করতে পারিনি” বলেন মিজ সরকার।

তাই ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তনের আশা করেন তিনি। নতুন সরকারের কাছে নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান।

তবে মিজ সরকার জানান, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও ততটা তৎপর নয়।

তার ভাষায় পুলিশের ভূমিকা “খুবই দুর্বল।”

জেলে বিদ্যুৎ মণ্ডল বলছিলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে অনেকটা বুদ্ধি খাটিয়েই টিকে থাকতে হয় তাদের।

মি. মণ্ডল জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি। তিনি বলছিলেন, “দুর্যোগটা যখন দ্রুত উঠে আসে, আমাদের উপকূলীয় এলাকায় কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়। কোনো সাইক্লোন সেন্টার নাই যেখানে দুর্যোগের সময় দ্রুত অবস্থান নেবে।”

মি. মণ্ডল বলছেন, “ভোট আসে আর যায়। কেউই নজর দেয় না।”

তাই যেসব জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট, বয়াসহ নিরাপত্তা সামগ্রী, অসুস্থ বা আহত বনজীবীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ চান মি. মণ্ডল।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সাতজন বৈধ প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ।

এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। দল থেকে তিনি বহিস্কার হয়েছেন।

 

বিবিসি নিউজ বাংলা