১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
চীনের রপ্তানি উত্থানের আড়ালে অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ, প্রযুক্তি ঢাকছে ঘরোয়া দুর্বলতা মহারাষ্ট্রের লাডকি বহিন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, বাদ পড়লেন লাখো নারী, উঠছে অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন সংসদে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল ঠেকাতে কংগ্রেসের কঠোর অবস্থান, সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি তৃতীয় ভাষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা, নবম শ্রেণিতে নয় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করার পরামর্শ নিমজ্জিত ধান-সবজির খেত, মৎস্য-প্রাণীর ক্ষতি ৪৮৮ কোটি টাকা পাঁচ মিনিটের ব্যর্থতা, নাকি পুরো যাত্রার বিচার? টুখেলকে ঘিরে ইংল্যান্ডের অস্থিরতার গল্প নিজের অতীতের ছায়ায় বন্দী একটি জাতি: ইংল্যান্ডের ফুটবল, ব্রিটেনের মানসিকতা বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫ কোটি ডলার, বাড়ছে সব দলের পুরস্কার দাপুটে জয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ, শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ভাগ্য জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর সেনা হেফাজতে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত, আমদানি-রফতানি ও রমজান বাজারে বড় ঝুঁকির শঙ্কা

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান সংকট সাময়িকভাবে কিছুটা শিথিল হলেও মূল অনিশ্চয়তা কাটেনি। লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা এসেছে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর। তবে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ থেকেই গেছে। সীমিত আকারে কার্যক্রম শুরু হলেও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি, ফলে আমদানি-রফতানি শৃঙ্খলে চাপ বাড়ছে।

সমাধানহীন বৈঠক, ফের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণে কার্যকর অগ্রগতি না হলে আবারও লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হতে পারে। বৈঠকে আশ্বাস মিললেও মূল সংকট অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর: নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে

ব্যবসায়ীদের গভীর উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রফতানি ও শিল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এ কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং রমজানকে ঘিরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হবে। কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, রফতানি পণ্য বন্দরে আটকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে।

ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতেও চাপ

পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে ড্যামারেজ ও সংরক্ষণ খরচ দ্রুত বাড়ছে। সময়মতো জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক দায় পরিশোধে জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা আর্থিক খাতেও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। সামনে রমজান ও ঈদের বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর কাউকে দেওয়া হচ্ছে না, অপারেটর নিয়োগ দেয়া হবে : নৌ পরিবহন  উপদেষ্টা

এনসিটি ইস্যুতে টানাপোড়েন অব্যাহত

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা নিয়ে আন্দোলনের জেরে বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। কর্মসূচি স্থগিত হলেও চুক্তি ঠেকানো যাবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা, যদিও দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে আন্দোলনকারী কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দ্রুত সমাধানের তাগিদ

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্দর একদিন অচল থাকাও অর্থনীতিতে বিশাল ক্ষতি ডেকে আনে। তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা জরুরি। অন্যথায় সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের বিপর্যয়, রফতানি খাতে আস্থা সংকট এবং বাজারে মূল্যচাপ—সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের রপ্তানি উত্থানের আড়ালে অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ, প্রযুক্তি ঢাকছে ঘরোয়া দুর্বলতা

চট্টগ্রাম বন্দরে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত, আমদানি-রফতানি ও রমজান বাজারে বড় ঝুঁকির শঙ্কা

০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান সংকট সাময়িকভাবে কিছুটা শিথিল হলেও মূল অনিশ্চয়তা কাটেনি। লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা এসেছে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর। তবে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ থেকেই গেছে। সীমিত আকারে কার্যক্রম শুরু হলেও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি, ফলে আমদানি-রফতানি শৃঙ্খলে চাপ বাড়ছে।

সমাধানহীন বৈঠক, ফের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণে কার্যকর অগ্রগতি না হলে আবারও লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হতে পারে। বৈঠকে আশ্বাস মিললেও মূল সংকট অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর: নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে

ব্যবসায়ীদের গভীর উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রফতানি ও শিল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এ কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং রমজানকে ঘিরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হবে। কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, রফতানি পণ্য বন্দরে আটকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে।

ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতেও চাপ

পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে ড্যামারেজ ও সংরক্ষণ খরচ দ্রুত বাড়ছে। সময়মতো জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক দায় পরিশোধে জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা আর্থিক খাতেও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। সামনে রমজান ও ঈদের বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর কাউকে দেওয়া হচ্ছে না, অপারেটর নিয়োগ দেয়া হবে : নৌ পরিবহন  উপদেষ্টা

এনসিটি ইস্যুতে টানাপোড়েন অব্যাহত

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা নিয়ে আন্দোলনের জেরে বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। কর্মসূচি স্থগিত হলেও চুক্তি ঠেকানো যাবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা, যদিও দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে আন্দোলনকারী কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দ্রুত সমাধানের তাগিদ

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্দর একদিন অচল থাকাও অর্থনীতিতে বিশাল ক্ষতি ডেকে আনে। তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা জরুরি। অন্যথায় সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের বিপর্যয়, রফতানি খাতে আস্থা সংকট এবং বাজারে মূল্যচাপ—সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।