তাইওয়ান প্রসঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে বিরল উদ্যোগ নেয় বেইজিং, তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত গতি পায়নি।

বিরল কূটনৈতিক উদ্যোগ
গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ রাষ্ট্রদূত বা তাঁদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকে চীন। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল তাকাইচির মন্তব্য নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মতামত শোনার উদ্দেশ্যে। তবে বৈঠকের ভেতরে চীন পৃথকভাবে দেশগুলোর কাছে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানায় বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
জাপানের মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা
তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে চীন সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালায় বেইজিং। তবুও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সাধারণত বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। ফলে চীনের আহ্বানে সরাসরি সমর্থন না জানিয়ে তারা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, জাপানকে আঞ্চলিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।
ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণ
তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক—সব মিলিয়ে পূর্ব এশিয়ার কূটনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। চীন ও জাপানের এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















