বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি শেয়ারের তীব্র পতনের প্রভাবে আবারও চাপের মুখে পড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার। এরই মধ্যে বিটকয়েন নেমে আসে প্রায় ১৬ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে এবং ৬০ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক স্তর পরীক্ষা করে। অস্থির লেনদেনের মধ্যেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে দাম বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়েছে।
দাম ওঠানামার তীব্রতা
শুক্রবার লেনদেন চলাকালে বিটকয়েন একসময় নেমে আসে প্রায় ৬০ হাজার ডলারের কাছাকাছি, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। পরে তা সামান্য বেড়ে মাঝামাঝি ৬৪ হাজার ডলারের ঘরে ওঠে। একই সময়ে ইথারও দিনের শুরুতে বড় পতনের মুখ দেখলে ও শেষে কিছুটা পুনরুদ্ধার করে।

বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারে বড় ধস
অক্টোবরের শুরুর সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক ক্রিপ্টো বাজারের মোট মূল্য কমেছে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার। শুধু গত এক মাসে উধাও হয়েছে এক ট্রিলিয়নের বেশি। সাপ্তাহিক হিসাবে বিটকয়েনের ক্ষতি প্রায় ১৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে মোট পতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশে। ইথারের ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে।
প্রযুক্তি খাত ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েন দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি খাতের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস যখন বাড়ে, তখন দামও বাড়ে। কিন্তু প্রযুক্তি শেয়ারে বিক্রি শুরু হলে তার প্রভাব পড়ে ক্রিপ্টোতেও। স্বর্ণ ও রূপার মতো নিরাপদ সম্পদ বলেও পরিচিত বাজারগুলোতেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতা বেড়েছে, যা সামগ্রিক ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতাকে জোরদার করেছে।

অতিরিক্ত ঝুঁকির মূল্য দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
বাজার পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, অনেক বড় বিনিয়োগ দ্রুত তুলে নেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে করা বাজি এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। যাঁরা ভেবেছিলেন দাম শুধু বাড়বেই, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফলে ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ গত কয়েক মাস ধরে শীতল হয়ে এসেছে।
বিনিয়োগ তহবিল থেকে অর্থ প্রবাহ কমেছে
মার্কিন স্পট বিটকয়েন তহবিলগুলো থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে গেছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে। ধারাবাহিক এই অর্থপ্রবাহ হ্রাস বাজারে নেতিবাচক মনোভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















