চীন যুদ্ধে নয়, কূটনীতিতে কিউবার পাশে দাঁড়ালো
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শুক্রবার হাভানার বন্ধুঘর কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাকে বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন যে চীন কিউবার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে সমর্থন রাখে এবং যে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে। এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সরকারকে “সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা হুমকির” খাতায় রাখার পর নতুন হিসেবে চাপ সৃষ্টি করছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে বেইজিং কিউবার জনগণের অধিকার রক্ষা ও জীবন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে। কিউবার দিক থেকেও এই ঐতিহাসিক সামাজিকতান্ত্রিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সম্পর্ককে পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি কিউবার বিরুদ্ধে এক জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে বলেছে কিউবা “শত্রু দেশ ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক রাখছে”, এমন দাবি তুলে দিয়ে দেশটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ সংক্রান্ত পদক্ষেপে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর উপর শুল্ক আরোপ ও অন্যান্য চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল ডিয়াজ-ক্যানেল এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন কিউবা “সন্ত্রাসী দেশ নয়” এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকি দেয় না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “সমান মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে, চাপ ছাড়া আগ্রহভিত্তিক আলোচনা” করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিউবা-চীন সম্পর্কই কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং এটি ল্যাটিন আমেরিকায় ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক খেলাটি আরো জটিল হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















