কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে চলতি বছরে প্রায় দুইশ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে অ্যামাজন। ব্যয়ের এই লাফিয়ে বৃদ্ধি ঘোষণার পরপরই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর তীব্রভাবে নেমে যায়, যা প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিনিয়োগ বাড়লেও বাজারের সংশয়
আমাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, ক্লাউড সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে ঘিরে বাজার সতর্ক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুলো বিপুল ব্যয় বাড়াচ্ছে, তবে সেই ব্যয়ের আর্থিক ফল কত দ্রুত আসবে—এ প্রশ্নই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।

ক্লাউড ব্যবসায় শক্ত অবস্থান
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে সাম্প্রতিক প্রান্তিকে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মোট বিক্রয়ের তুলনায় এই খাতের অবদান কম হলেও পরিচালন মুনাফার বড় অংশই আসে এখান থেকে। নতুন অ্যাপ্লিকেশন, গ্রাহক সেবা স্বয়ংক্রিয়করণ এবং সরাসরি ক্রীড়া আপডেটের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সেবা যুক্ত করে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
প্রযুক্তি খাতে সম্মিলিত ব্যয়ের ঢেউ
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিয়ে চলতি বছরে কয়েকশ বিলিয়ন ডলার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটের বার্তা স্পষ্ট—ব্যয় বাড়াতে হলে সমপর্যায়ের আয় ও পরিচালন ফল দেখাতে হবে। অন্যথায় শেয়ারবাজারের চাপ আরও বাড়তে পারে।

ই-কমার্স, বিজ্ঞাপন ও খুচরা কৌশল
গ্রাহক বাড়াতে গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ, দ্রুত ডেলিভারি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে বিনিয়োগ জোরদার করছে অ্যামাজন। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। তবে শারীরিক দোকান খাতে ক্ষতির কারণে কিছু স্টোর বন্ধ ও পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মীসংখ্যা ও ব্যয় পুনর্বিন্যাস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর যুক্তিতে করপোরেট পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবু সামগ্রিক কর্মীসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে, যা সম্প্রসারণ ও পুনর্গঠনের দ্বৈত বাস্তবতাকে নির্দেশ করে।
বাজারের সামনে বড় প্রশ্ন
অ্যামাজনের বিপুল বিনিয়োগ প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার কৌশল হলেও স্বল্পমেয়াদে শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এই ব্যয় কত দ্রুত আয় ও মুনাফায় প্রতিফলিত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















