বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান চলতি বছরে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন। ভারতীয় টি-টোয়েন্টি লিগ থেকে হঠাৎ বাদ পড়ার পর তিনি পাকিস্তান সুপার লিগের লাহোর কালান্দার্স দলে যোগ দিলেও সেখানে তার পারিশ্রমিক কমেছে প্রায় সত্তর সাত শতাংশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

আইপিএল ছাঁটাইয়ের পর নতুন ঠিকানা
গত মাসের শুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যায়। এর কিছুদিন পরই পাকিস্তান সুপার লিগের লাহোর কালান্দার্স সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে তাকে দলে ভিড়িয়ে নেয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতীতে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলা মোস্তাফিজ আবারও ‘পরিবারে’ ফিরে এসেছেন।
বেতনে বড় পতন
আইপিএলের নিলামে কলকাতা তাকে প্রায় নয় কোটি টাকার বেশি দামে দলে নিয়েছিল। কিন্তু লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়ে তিনি পাচ্ছেন তুলনামূলক অনেক কম অর্থ, যা ভারতীয় মুদ্রায় দুই কোটির সামান্য বেশি। ফলে তার আয়ে কমেছে প্রায় সত্তর সাত শতাংশেরও বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও এমন বড় আর্থিক ব্যবধান স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলো এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করা থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের ম্যাচ অন্যত্র সরানোর অনুরোধ—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে অন্য দলকে সুযোগ দেয়।
পিএসএলে পুরোনো অভিজ্ঞতা
এটি মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য পাকিস্তান সুপার লিগে দ্বিতীয় অধ্যায়। আগেরবার লাহোরের হয়ে খেলেছিলেন তিনি এবং সীমিত সুযোগে ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নজর কেড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই নতুন মৌসুমে তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এনে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















